Published : 01 Sep 2025, 05:29 PM
সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সরকারের কাজের সুবিধার জন্য সামাজিক নিরাপত্তা জালের একটা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করে দিতে চান বলে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে চীন মৈত্রী সম্মেলনে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
তার ভাষ্য, “আমরা এই সরকার তো আর কয়েক মাসের জন্য আছি। কিন্তু আমরাও একটা রোডম্যাপ তৈরি করে দিতে চাই অনেকগুলো ব্যাপারে। তারমধ্যে স্যোশাল সেইফটি নেট একটা ব্যাপার আছে।
“এখানে একটা রোডম্যাপ তৈরি করে দিতে চাই যেটা আগামী নির্বাচিত সরকার তাদের সুবিধা হবে সেখান থেকে শুরু করতে।”
‘একটা ন্যায্যতাভিত্তিক সমাজে চরম দারিদ্র্যতা থাকতে পারে না’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এটা আমাদের বেশ মূল একটা উদ্দেশ্য হিসেবে, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে এখন থেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।
“যার কোন জীবনধারণেরই উপায় নাই, স্কুল দিয়ে তো তার লাভ নাই। স্বাস্থ্য কেন্দ্র দিয়ে তো তার লাভ নাই। সেখানে যাওয়ার মত অবস্থায়ই তো সে নাই। কাজেই এই দুইটা অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত।”
উপদেষ্টা বলেন, “কোন দেশের সবার আয় সমান হয়ে যাবে না। পৃথিবীর কোন দেশ নাই যেখানে সবার আয়ই সমান হয়ে গেছে। কিন্তু সুযোগ সমান থাকতে হবে। দ্যাটস দ্য প্রিন্সিপাল অব দ্য সোসাইটি। সমাজে ইকুইটেবল অপরচুনিটি থাকতে হবে।
“আমি যেটা বোঝাতে চাচ্ছি সেটা হচ্ছে, ইকুইটেবল অপরচুনিটি মানে সবাইকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা না, সেটার সাথে সাথে ন্যূনতম বাঁচার জন্য যেটা দরকার সেটা দিতে হবে।”
একই সঙ্গে কোথায় বেশি দারিদ্র্যতা রয়েছে তাও চিহ্নিত করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও গণমাধ্যমের ফিডব্যাক চান তিনি। যাতে করে তার মন্ত্রণালয়ও সেভাবে কর্মসূচি নিতে পারে।
বলেন, “যখন আমি বলেছি লক্ষ্যের এর কথা, এই লক্ষ্য তো শুধু সব এলাকায় যারা দরিদ্র তাদের না। এর মধ্যে আমাদের কিছু অঞ্চল আছে। কিছু অঞ্চলকে বলে দারিদ্র্যের জায়গা – পোভার্টি পকেট। রংপুর পোভার্টি পকেট ছিল। সিজনাল পোভার্টি ছিল যাকে মঙ্গা বলা হত।
“মিডিয়াতে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছিল মঙ্গা নিয়ে। মিডিয়ার কারণেই সরকার মঙ্গাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। স্বীকৃতি দিয়েছে বলেই কৃষিতে, মাইক্রোক্রেডিটে অনেক ধরণের প্রোগ্রাম হয়েছে। ফলে রংপুরে সিজনাল হাঙ্গার অতটা নেই। তবে দারিদ্র্যতা আছে। তবে নতুন পোভার্টি পকেট হচ্ছে নেত্রোকোণা, সুনামগঞ্জ, লোয়ার কোস্টাল বেল্ট অব সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী।”
তিনি বলেন, “একদিক থেকে আমাদের পরিবার ভিত্তিক টার্গেটিং, অন্যদিকে রিজিওনাল ভিত্তিক টার্গেটিং – এগুলোও আপনারা যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন তারা ফিডব্যাক দিলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে।
“আমাদের প্রিন্সিপাল অব জাস্ট সোসাইটি মিনিমাম লাইভলিহুডের সাথে শিক্ষা-স্বাস্থ্য জড়িত। স্বাধীনতার যে মূল্যবোধ সেখানেও সেটা ছিল। একটা সাম্যভিত্তিক সমাজ। সেটা আবার গতবছরের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বিষয় হল, আমরা সাম্যভিত্তিক সমাজ চাই।”
এছাড়াও বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ৫০ শতাংশ লোক ‘রাজনৈতিক কারণে সামাজিক কর্মসূচির আওতায় ছিল’ তুলে ধরে তাদের বাদ দিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।