১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

গেন্ডারিয়ায় ছিনতাইয়ের পর খুন, ২ জনের যাবজ্জীবন

আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Jul 2026, 02:35 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:45 PM

দেড় দশক আগে ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় ছিনতাইয়ের পর সবজি ব্যবসায়ীকে খুনের মামলায় দুই আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।

আসামিদের ছিনতাইয়ের দায়ে আরও পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিতরা হলেন—বাবু ওরফে বাঘা বাবু ও মামুন।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার বলেন, “যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ৬ মাস কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

“আর পাঁচ বছরের সাজার সাথে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস কারাভোগ করতে হবে।”

আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সবজি ব্যবসায়ী চুন্নু মিয়া শ্যামবাজারে কাঁচামালের ব্যবসা করতেন। ২০১১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে কাঁচামাল কেনার জন্য যাত্রাবাড়ী আড়তে যান। সেখান থেকে এক বস্তা বেগুন কিনে রিকশায় করে শ্যামবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। 

ভোর ৫টার দিকে গেন্ডারিয়া থানার কাঠেরপুল এলাকায় পৌঁছালে আসামিরা তাকে বহনকারী রিকশা আটকায়। আসামিরা চুন্নুর কাছে টাকা-পয়সা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। চুন্নু আসামিদের চেনেন বলে জানান। একথা শোনার পর সজিব তাকে ছুরিকাঘাত করে। পরে গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় চুন্নু মিয়ার শ্যালক জাহাঙ্গীর পরদিন গেন্ডারিয়া থানায় ছিনতাইয়ের পর খুনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে সজিব, মামুন ও বাঘা বাবুকে অভিযুক্ত করে একই বছরের ১৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন গেন্ডারিয়া থানার এসআই মনিরুজ্জামান। 

ওই বছরের ৭ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। বিচার চলাকালে আদালত ১৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। বিচার চলাকালে আসামি সজিব মারা যায়।

আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার রায় দিল আদালত।