Published : 30 Apr 2026, 09:51 AM
ঢাকা আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের শেষ দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় শুরু হওয়া এ ভোট চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। মাঝে একঘণ্টা বিরতি দিয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. বোরহান উদ্দিন।
২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবীর মধ্যে বুধবার প্রথম দিনে দুই হাজার ৭৫৯ জন ভোট দেন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে ১০ জন কমিশনার এবং ১০০ জন সদস্য কাজ করছেন।
এবারের নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাদা প্যানেল। দুই দশকের বেশি সময় ধরে একসঙ্গে নির্বাচন করা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী সমর্থক আইনজীবীরা এবার একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন।
বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থক আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল বা ‘নীল প্যানেল’ এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থকরা আইনজীবী ঐক্য পরিষদ বা ‘সবুজ প্যানেল’-এ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এ নির্বাচনে ২৩টি পদে প্রার্থী হয়েছেন মোট ৫৫ জন। তাদের মধ্যে ২৩ জন করে ৪৬ জন প্রার্থী বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্যানেলের, বাকি ৯ জন স্বতন্ত্র।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য বা নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অপর দিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ দলীয় জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস এম কামাল উদ্দীন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বক্কর সিদ্দিক লড়ছেন।
চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবারই প্রথম নির্বাচন হচ্ছে ঢাকা বারে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।
আওয়ামী লীগ সমর্থক একাধিক আইনজীবী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে ‘অনুমতি’ না মেলায় তারা অংশ নিতে পারছেন না।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪-২৫ মেয়াদে সর্বশেষ ঢাকা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে জয়ী হয় আওয়ামী লীগ সমর্থক সাদা প্যানেল।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। তাতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।
সেই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ অগাস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এতদিন সেই অ্যাডহক কমিটিতেই চলছিল সমিতির কাজ।
কোন প্যানেলে প্রার্থী কারা
নীল প্যানেল (জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য)
সভাপতি: মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া
সাধারণ সম্পাদক: মোহাম্মদ আবুল কালাম খান
সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. রেজাউল করিম চৌধুরী
সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ
কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান (আনিস)
সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. ইলতুৎমিশ সওদাগর (অ্যানি)
সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. মাহাদী হাসান জুয়েল
লাইব্রেরি সম্পাদক: খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ)
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মারজিয়া হীরা
অফিস সম্পাদক: মো. আফজাল হোসেন মৃধা
ক্রীড়া সম্পাদক: মো. সোহেল খান
সমাজকল্যাণ সম্পাদক: এ এস এম ফিরোজ
তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক: শফিকুল ইসলাম (শফিক)
সদস্য: এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মো. আদনান রহমান, মো. নিজাম উদ্দিন, মো. নজরুল ইসলাম (মামুন), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), শেখ শওকত হোসেন ও সৈয়দ সারোয়ার আলম (নিশান)।
সবুজ প্যানেল (আইনজীবী ঐক্য পরিষদ)
সভাপতি: এস এম কামাল উদ্দীন
সাধারণ সম্পাদক: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক
সিনিয়র সহ-সভাপতি: মো. শাহিদুল ইসলাম
সহ-সভাপতি: মো. লুৎফর রহমান (আজাদ)
কোষাধ্যক্ষ: মো. আজমত হোসেন
সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. শাহীন আক্তার
সহ-সাধারণ সম্পাদক: মো. মেহেদী হাসান ভূঁইয়া
লাইব্রেরি সম্পাদক: মো. শাহাদাত হোসেন
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: বিলকিস আক্তার
অফিস সম্পাদক: মো. আবদুর রাজ্জাক
ক্রীড়া সম্পাদক: বাবুল আক্তার (বাবু)
সমাজকল্যাণ সম্পাদক: মোহাম্মদ শাহজাহান মোল্লা
তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ
সদস্য: বেলাল হোসেন, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা), জহিরুল ইসলাম, কাওসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), মো. মহসিন (রেজা), মো. ওমর ফারুক, মো. শাহ আলম, মো. ইউনুস ও মোশাররফ হোসেন।
স্বতন্ত্র
সভাপতি: মোহাম্মদ ইউনুস আলী বিশ্বাস
সাধারণ সম্পাদক: বলাই চন্দ্র দেব ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ
কোষাধ্যক্ষ: রফিকুল ইসলাম
সহ-সাধারণ সম্পাদক: দেওয়ান আবুল হোসেন
সাংস্কৃতিক সম্পাদক: ওলিদা বেগম
অফিস সম্পাদক: জাকির হোসেন