Published : 29 Jul 2026, 08:08 PM
দুই দেশের জনগণের যাতে মঙ্গল হয়, সেভাবেই তিস্তা ও গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আশা দেখালেন ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
তিনি বলেছেন, “এমন কোনো সমস্যা নাই, যেটা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে সমাধান করা যাবে না।”
বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নে এমন বক্তব্য দেন ত্রিবেদী।
বহু বছর ধরে আটকে থাকা তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন করলে ভারতীয় দূত বলেন, “এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে দেখা সাক্ষাৎ হয়।
“দিন শেষে বিষয়টা হল জনগণ থেকে জনগণের, যেটা দুই গণতান্ত্রিক দেশ এবং জনগণের জন্য উপকার হয়, সেটাই।”
গঙ্গা চুক্তির নবায়ন প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আজকে এটা বলতে পারি, এটা নিয়ে ওদের একটা ওয়ার্কিং গ্রুপ আছে। ওখানে আমাদের ভারতীয়রাও আছে, বাংলাদেশও আছে। ওয়ার্কিং গ্রুপের নিশ্চয় মেলামেশা হবে।
“আমি যেভাবে বলেছি, এমন কোনো ইস্যু নেই, যেটা সমাধান করা যাবে না। ওয়ার্কিং গ্রুপ নিশ্চয় সক্রিয়ভাবে তাদের কাজ করে যাবে। দুদেশের জনগণের জন্য যেটা উপকারী, সেটা নিশ্চয় হবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরে এ বিষয়ে ইতিবাচক কিছু হওয়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত, যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন এবং ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের নিজেদের কাগজপত্র উপস্থাপন করবে…।
“সুতরাং সবকিছু ইতিবাচক হওয়ার প্রতীক্ষায় আমি আছি।… অনেক ইতিবাচকতা নিয়ে অসাধারণ বৈঠক হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আরেক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। অবশ্য আমাদের দিক আমি বলতে পারি, আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
“এবং আমি নিশ্চিত, অদূর ভবিষ্যতে এটা হবে। আমরা খুবই আশাবাদী এবং আমরা সেই প্রতীক্ষায় আছি।”
টানাপড়েন পেরিয়ে প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার মধ্যে ঢাকায় হাই কমিশনারের দায়িত্ব নেন ভারতের প্রবীণ রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদী।
বাংলাদেশে আসার তের দিন পর ২৫ জুন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করে আনুষ্ঠিকভাবে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরু করেন তিনি।
এর এক মাস পর বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন হাই কমিশনার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুই শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ‘খুবই ভালো বৈঠক’ হয়েছে মন্তব্য করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “এই মিটিংটা আমি ভাবি একটা পদক্ষেপ। যাকে বলে খুবই আন্তরিক পরিবেশে ছিল। কেননা, আমাদের ইস্যুজ সব একই আছে।
“আমি আপনাদেরকে বলতে পারি, ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, এমনকি ক্রিকেট খেলা… আর আমি এখান থেকে খুবই খুশি হয়ে ফিরছি। আমি কৃতজ্ঞ যে মাননীয় মন্ত্রী তার অনেক সময় দিয়েছেন।”
দুই দেশের জনগণের মঙ্গলের বিষয়গুলো মাথায় রেখে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে দুই পক্ষই আগ্রহী বলে মন্তব্য করেন দীনেশ তিবেদী।
তিনি বলেন, “এটাতো কেবল শুরু হল। আমি নিশ্চিত, একে অপরে আরও বেশি মিথষ্ক্রিয়া আমরা করব এবং সেটার প্রতীক্ষা করছি।”
‘সম্পর্ক রিসেটে একমত হয়েছি’
পরে ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, “আমার সঙ্গে ভারতের নতুন হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সাক্ষাৎ হল। এটা ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিস্তৃত কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করিনি, এটাই নিয়ম।
“কারণ, এর জন্য আমাদের সময় পড়ে আছে। তবে দুই দেশের সম্পর্ক রিসেটের ব্যাপারে আমরা দুজনে ঐকমত্য পোষণ করি।”
তিনি বলেন, “আগামীতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক যাতে পারস্পরিক স্বার্থ সামনে রেখে… এবং আমি এটা সময় বলি, এখনো বলছি– ‘বাংলাদেশ প্রথম’। সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমরা এগিয়ে যাব। এ বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করি।
“কোনো বিশেষ বিষয়ে আমাদের দীর্ঘ আলোচনা হয়নি। কেবলমাত্র দুই দেশের সম্পর্ক সাধারণভাবে উন্নীত করার বিষয়ে আলোচনা করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এক প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণের বিষয়ে আমরা এখন রিভিউ (পযালোচনা) করছি এবং আমরা এ বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত নেব এবং আপনাদের তাৎক্ষণিকভাবে জানাব।”
পুশ-ইন নিয়ে হাই কমিশনারের সঙ্গে আলাপ হল কিনা-জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আজকে আমরা কোনো বিশেষ কথা বলি নাই। কিছু কিছু ইরিটেশন (অস্বস্তি) আছে। উনিও জানেন, আমিও জানি। আমাদের এগুলো নিরসন করার প্রয়োজন।”
দিল্লিতে নির্বাসনে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে খলিল বলেন, “আগেই বলেছি, এটা একটা সৌজন্য সাক্ষাৎ। আমরা বিশেষ কোনো ইস্যু নিয়ে কথা বলি নাই। আমাদের মধ্যে যে বিষয়গুলো আছে তা আগামী দিনে সব নিয়েই তো আলোচনা হবে।”
ফিলিপিন্সের রাজধানী ম্যানিলায় সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে খলিলুর রহমানের। সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উনি জানেন ত্রিবেদীর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ আছে। আমরা দুজনে আশা প্রকাশ করেছি, আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দুপক্ষই কাজ করবে।”