Published : 10 Oct 2025, 10:07 PM
এমিরেটাস অধ্যাপক ও সাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলামের মরদেহ শেষবারের মত নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অপরাজেয় বাংলার সামনে তাকে শেষ বিদায় জানাবেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এরপর ১১টায় নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
‘ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট অ্যালামনাই সোসাইটির’ ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জোহর নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাযা হবে। এরপর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
গত ৩ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হলে নেওয়া হয় ল্যাবএইড হাসপাতালে। সেখানে ভর্তির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাতেই তার হার্টে দুইটি রিং পরানো হয়।
রোববার সন্ধ্যায় অবস্থা ‘সংকটাপন্ন’ হলে সৈয়দ মনজুরুলকে ভেন্টিলেশন সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে ‘ভেন্টিলেশন সাপোর্ট’ ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছিলেন তিনি। তবে শুক্রবার সকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে তাকে ফেরানো যায়নি।
অধ্যাপক মনজুরুল ইসলামের জন্ম ১৯৫১ সালের ১৮ জানুয়ারি সিলেটে। তার বাবার নাম সৈয়দ আমীরুল ইসলাম, মা রাবেয়া খাতুন।
সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৬ সালে মাধ্যমিক পাস করেন তিনি; সিলেট এমসি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেন।
১৯৮১ সালে কানাডার কুইন্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইয়েটস-এর কবিতায় ইমানুয়েল সুইডেনবার্গের দর্শনের প্রভাব বিষয়ে পিএইচডি করেন।
পেশাগত জীবনে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে অবসরের পর যোগ দেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে। ১৯৯৬ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার এবং ২০১৮ সালে একুশে পদক পান।
তার বইয়ের মধ্যে রয়েছে—পুস্তক প্রকাশনা ও সম্পাদনা প্রসঙ্গ, থাকা না থাকার গল্প, কাচ ভাঙ্গা রাতের গল্প, অন্ধকার ও আলো দেখার গল্প, আধখানা মানুষ্য, দিনরাত্রিগুলি, আজগুবি রাত, তিন পর্বের জীবন, নন্দনতত্ত্ব, কতিপয় প্রবন্ধ, অলস দিনের হাওয়া।