১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বঙ্গবন্ধু শান্তিপদক’ দিতে শিগগির জুরি বোর্ড গঠন: মোজাম্মেল হক

গত ২০ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তিপদক নীতিমালা-২০২৪’ এর খসড়া অনুমোদন পায়।

‘বঙ্গবন্ধু শান্তিপদক’ দিতে শিগগির জুরি বোর্ড গঠন: মোজাম্মেল হক
ঢাকার স্কাটনে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2024, 11:28 AM

Updated : 10 Sep 2026, 12:07 PM

আগামী বছর থেকেই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তিপদক’ দেওয়ার লক্ষ্যে শিগগির একটি ‘নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক’ জুরি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

বৃহস্পতিবার ঢাকার স্কাটনে ‘বঙ্গবন্ধু: অ্যা চ্যাম্পিয়ন অব ওয়ার্ল্ড পিস’ শিরোনামের এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) এর আয়োজন করে। 

চলতি মে মাসের ২০ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শান্তিপদক নীতিমালা-২০২৪’ এর খসড়া অনুমোদন পায়। 

বঙ্গবন্ধু বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের ‘প্রাণের নেতা’ ছিলেন মন্তব্য করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “শান্তি, সাম্য, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার চিন্তা ও দর্শন মানুষের মধ্যে প্রেরণা জুগিয়েছে। শোষিত ও স্বাধীনতাকামী সংগ্রামী মানুষ বিশ্বের যে প্রান্তেই হোক না কেন, তিনি তাদের সঙ্গে একাত্ম ছিলেন।

“জেল, জুলুম, অত্যাচারসহ অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েও কখনও থেমে যাননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু নিজের জীবনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রতিক্রিয়া প্রত্যক্ষ করেছেন। সে সময় তিনি স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দুস্থ ও অনাহারিদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে গেছেন।”

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর অবদান ও অর্জনের বিষয়ে বর্ণনা করতে গিয়ে মোজ্জাম্মেল হক বলেন, “বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে শান্তিপূর্ণ পথে অগ্রসর হয়েছিলেন। বিশ্বশান্তি পরিষদ সম্মেলন ও পিস কনফারেন্স অব দ্য এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক রিজিওন্সে যোগ দেন। 

“তিনি দেশ-বিদেশ যেখানেই মানবাধিকারের লঙ্ঘন ও স্বাধীনতা খর্ব হতে দেখেছেন, সেখানেই প্রতিবাদ করেছেন। বঙ্গবন্ধুর এ চিন্তাধারা এবং শান্তির জন্য তার আহ্বান পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী মূল্যায়ন হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অর্জন করেন ‘জুলিও কুরি’ স্বর্ণ পদক। এ পদক অর্জনের মাধ্যমে তিনি বঙ্গবন্ধু থেকে হয়েছেন বিশ্ববন্ধু।”

অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. শাহরিয়ার আলম, বিআইআইএসএসের সভাপতি আ ফ ম গওসোল আযম সরকার, বিশ্বশান্তি পরিষদ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি মোজাফফর হোসেন পল্টু, বীর প্রতীক সাজ্জাদ আলী জহির, ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর মাশফি বিনতে শামস মহাপরিচালক মো. আবু বকর সিদ্দিক খান ও জ্যেষ্ঠ গবেষক ফেলো এম আশিক রহমান সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।

খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে ২০২৫ সাল থেকে এ শান্তিপদক দেবে সরকার; পুরস্কার হিসেবে থাকবে নগদ ১ লাখ ডলার, ৫০ গ্রাম ওজনের একটি ১৮ ক্যারেট স্বর্ণপদক ও সনদ।

ওই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখা, যুদ্ধ নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ ও অবদান রাখা, দ্বন্দ্ব সংঘাতময় পরিস্থিতিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখা, টেকসই সামাজিক পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র বা সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ সাধন ও এই ধরনের কাজের জন্য দেওয়া হবে এই শান্তিপদক।

“পুরস্কারের মধ্যে থাকবে ৫০ গ্রাম ওজনের ১৮ ক্যারেটের একটি স্বর্ণপদক এবং নগদ এক লাখ ডলার। একটি সনদপত্র দেওয়া হবে। প্রতি দুই বছরে একবার দেওয়া হবে এ শান্তিপদক। পৃথিবীর যে কোনো দেশ থেকে নাম প্রস্তাব করা যাবে।”

নীতিমালায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান বা সেই দেশের সংসদ সদস্যরা, নোবেল পুরস্কার বা অন্য কোনো আন্তর্জাতিক শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি, বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দূতাবাসের প্রধান অথবা আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রধানরা, বিদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতরা, জাতিসংঘের কোনো সংস্থার প্রধানরা পুরস্কারের জন্য কারও নাম প্রস্তাব করতে পারবেন।

পুরস্কারের জন্য সরকার গঠিত জুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।

প্রতিবছর ১৭ মার্চ, বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবসে বা জাতীয় শিশু দিবসে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। ২৩ মে বা কাছাকাছি সময়ে বিজয়ী হাতের পুরস্কার হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এই পুরস্কার কার্যক্রমের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং সেখানে অর্থবিভাগ সার্বিক সহযোগিতা করবে। জুরি বোর্ডের সদস্য হবেন খ্যাতিসম্পন্ন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব গত ২০ মে জানিয়েছিলেন, আগামী বছর থেকে প্রতি দুই বছর পর পর এই পুরস্কার দেওয়া হবে। প্রধানত একজনকে পুরস্কার দেওয়া হবে। কোনো বছর যদি একাধিক যোগ্য লোক পাওয়া যায়, বিবেচনা করা হবে। মন্ত্রিসভা এটা নিয়ে একটি আইন তৈরি করার কথা বলেছে। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করার কথা বলেছিলেন তিনি।

আইনের মধ্যে একটি ফান্ড তৈরি করতে বলা হবে। সেই ফান্ডে সরকার বা বাইরের কোনো ব্যক্তি অনুদান দিতে পারবেন। সেই অনুদানের টাকা থেকে ব্যয় বহন করা হবে। এর আগ পর্যন্ত সরকার ব্যয়ভার বহন করবে।

১৯৭৩ সালের ২৩ মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও কুরি শান্তি পদক দেওয়া হয়েছিল। গত বছর ২৩ মে এই পদকপ্রাপ্তির ৫০ বছর পূর্ত উদযাপন করা হয়। 

সেদিনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর নামে একটি শান্তিপদক প্রবর্তন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।