১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ক্ষমতার পালাবদলে' নারীর প্রতি অসহনশীলতা বাড়ে : নাহিদ

যে কোনো নির্বাচনের পরে সহিংসতা বেড়ে যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Mar 2026, 05:45 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:06 PM

বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকেই সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। 

তার কথায়, 'ক্ষমতার পালাবদলের' সাথে সাথে সমাজে নারীর প্রতি সহিংসতা বেড়ে যায়। এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। 

আন্তর্জাতিক নারী দিবসে রোববার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এনসিপির নারী সংগঠন ‘জাতীয় নারী শক্তির আত্মপ্রকাশ’ এর প্রকাশ অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন নাহিদ।

তিনি বলেন, "আমাদের সামাজিকভাবে এই সহিংসতা সবসময় চলে। যে কোনো নির্বাচনের পরে এই জিনিসগুলো বেড়ে যায়। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো দৃঢ়ভাবে কঠোরভাবে এটা বন্ধ করার জন্য এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।

"কারণ বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকেই সমাজে এই জিনিসগুলা বাড়তে থাকে। আমরা হাতিয়ার ঘটনা দেখেছি, আরো বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি। যে কোন পাওয়ার শিফটিংয়ের সাথে সাথেই নারীদের প্রতি অসহনশীলতাটা হঠাৎ করে সমাজে বেড়ে যায়।"

এ ধরনের সহিংস ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি নিজেদের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হতে এবং দল-মত বিবেচনায় না নিয়ে প্রকৃত অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।  

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে অংশ নিয়ে জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক, মাহমুদা মিতুকে সদস্য সচিব এবং নুসরাত তাবাসসুমকে মুখ্য সংগঠক করে নারী শক্তির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ করে বৈষম্যহীন সমাজ এবং নারী অধিকার এবং ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় নারী শক্তি কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন এনসিপির আহ্বায়ক। 

মুক্তিযুদ্ধ থেকে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান, দেশের সবগুলো বড় রাজনৈতিক সংগ্রামে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভূমিকা থাকলেও নারীদেরই সেই সংগ্রামগুলোর সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্ত করা হয় বলেও আক্ষেপ করেন নাহিদ। 

তিনি বলেন, "আজকে নারী দিবসে জুলাই পরবর্তী সময় একটা প্রশ্ন সবচেয়ে বেশি শুনতে হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়; যে আসলে জুলাইয়ের নারীরা কোথায় এবং জুলাই নারীরা যেই ব্যাপকভাবে আন্দোলনে ছিল সেই  একইভাবে তারা আসলে রাজপথে পরবর্তীতে ছিল না কেন?

"এর দায় আসলে আন্দোলনের নেতৃত্ব হিসাবে আমাদের কতটুকু? আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপট রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আসলে কতটুকু? এখানে অনেক আলোচনা হয়েছে। আমরা জানি তো জুলাই গণঅবত্থান পরবর্তী সময়ের বাস্তবতা এটাই যে যেই বোনেরা যে মেয়েরা রাজপথে নেমে এসেছিল তারা  রাজনীতিতে সবাই অংশগ্রহণ করে নাই। ম্যাক্সিমামই আমরা তাদেরকে হারিয়ে ফেলেছি।"

নির্বাচনি ইশতেহারে নারীর অধিকার রক্ষায় দেওয়া প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ।