Published : 06 Aug 2026, 10:40 PM
ফেইসবুকে জুলাই অভ্যুত্থানের আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই জঙ্গি’ ও ‘জুলাই মুরতাদ’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়ার মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ছাত্র শারাফাত শারিক রোহানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ।
শারাফাত শারিক রোহান জাবির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মানষ ভদ্র সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় বৃহস্পতিবার রোহানকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের স্বপক্ষে তথ্যাদি পাওয়া যাচ্ছে। আসামি উস্কানিমূলক পোস্ট করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিসহ সাধারণ জনগণকে আতঙ্কিত করার পাঁয়তারা করে। তিনি ভিন্ন জেলার স্থায়ী বাসিন্দা। তাৎক্ষনিক তার নাম-ঠিকানা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন।
এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, “আসামিপক্ষ থেকে জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। তবে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে রোহানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।”
জুলাইন আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে রোহানকে আটক করে জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। বৃহস্পতিবার সকালে জাবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ আবু সৈয়দ আশুলিয়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে রোহানের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, রোহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। তিনি গত ৫ অগাস্ট ভোর ৪টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়ে মনের অনুভূতি প্রকাশ করেন। এই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের সাধারণ শিক্ষার্থীররা ক্ষিপ্ত হন। পরে হল ছাত্র সংসদের নেতারা তাকে আটক করে রাখেন। সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে পুলিশে সোপর্দ করে।