১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি: আর্টিকেল ১৯

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের মত সিদ্ধান্তকে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি: আর্টিকেল ১৯
আর্টিকেল ১৯/নূরফটো

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2026, 07:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:51 PM

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন ও একটি সম্প্রচার কমিশন গঠনে হঠাৎ খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল ১৯।

সংগঠনটি বলছে, অন্তর্বর্তী সরকার তার মেয়াদের একেবারে শেষ সময়ে এসে এই খসড়া প্রকাশ করেছে। খসড়ার বিষয়ে জনমত নেওয়ার জন্য মাত্র তিন দিন সময় দিয়েছে। তাড়াহুড়োর ফলে এই উদ্যোগের স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়ায় ঘাটতি এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে আর্টিকেল ১৯ বলেছে, “জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশের খসড়ার লক্ষ্য এমন একটি জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা, যেখানে এর কাঠামো, মর্যাদা, কমিশনারদের দায়দায়িত্ব, প্রশাসনিক ও আর্থিক কাঠামো থেকে শুরু করে সবদিকই সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সেইসঙ্গে আমলাতান্ত্রিক কর্তৃত্বের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবে।

“এই ধরনের কাঠামো কমিশনকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ঝুঁকির মুখে ফেলে; আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের মানদণ্ডগুলো পূরণে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়। বিশেষ করে ‘ইন্টারন্যাশনাল কোভেনেন্ট অন সিভিল অ্যান্ড পলিটিক্যাল রাইটস’ (আইসিসিপিআর) এর ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বর্ণিত স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ সংস্থার শর্তগুলো পূরণ করে না।”

কমিশনের খসড়া নিয়ে আর্টিকেল ১৯ বলেছে, খসড়ায় সাংবাদিকের সংজ্ঞায় ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের রাখা হয়নি। এর ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের একটি বড় অংশ আইনি সুরক্ষা, অ্যাক্রেডিটেশন ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। এই ধরনের পদক্ষেপে ভঙ্গুর মিডিয়া পরিস্থিতির আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

“বাংলাদেশ গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমার প্রায় এক বছর পর এই অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশ করা হল। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর ওপরই এখনো কোনো অর্থবহ পদক্ষেপ নেয়নি সরকার। সংস্কার কমিশনের সদস্যরাও প্রকাশ্যে এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। মাসের পর মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর এখন জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশের খসড়া প্রকাশে সরকারের আকস্মিক তৎপরতার কারণে এর উদ্দেশ্য ও বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন থেকে যায়।”

মুহাম্মদ ইউনূস সরকারকে এই অধ্যাদেশ জারির প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে আর্টিক্যাল ১৯। পাশাপাশি জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ গঠনের মত সিদ্ধান্তকে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।