Published : 28 Aug 2026, 09:45 PM
অরাজনৈতিক ও অলাভজনক গবেষণা সংস্থা এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশের (এএসবি) কার্যনির্বাহী পরিষদের কাউন্সিল নির্বাচনে যাচাইবাছাইয়ে একটি মাত্র প্যানেল পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ বিবেচিত হওয়ায় তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।
এই নির্বাচনের জন্য আরো দুটি প্যানেলের সদস্যদের নাম জমা পড়লেও তাদের ‘অপূর্ণাঙ্গ’ আখ্যা দিয়ে বাদ দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, একই ব্যক্তির নাম দুই প্যানেলে রয়েছে। অর্থাৎ একই ব্যক্তি দুই প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য নাম দিয়েছিলেন।
তবে বাদ পড়া প্যানেল-২ এর প্রার্থীদের অভিযোগ, এএসবির গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ‘নিয়ম বহির্ভূতভাবে’ তাদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কারণ যারা বাদ দিয়েছেন, তাদের অনেকেই জয়ী প্যানেল-১ থেকে প্রার্থী হয়েছেন। এতে স্বার্থের সংঘাতও তৈরি হয়েছে।
তবে সংস্থার বর্তমান কাউন্সিলের ভাষ্য, তাদের গঠনতন্ত্রের ২৮ ও ৩৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একজন প্রার্থীর দুই প্যানেলে নাম থাকায় প্যানেল-১ ও ৩-কে বাদ দেওয়া হয়েছে। দুটি প্যানেলেই ‘চরম সাংবিধানিক অনিয়ম ধরা’ পড়ার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এএসবির নিয়ম অনুযায়ী, কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য নভেম্বরে প্যানেল নির্ধারণ হয়। একাধিক প্যানেল হলে নির্বাচন হয় ডিসেম্বরে। সে অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরে নির্বাচনের সময় ধার্য ছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে সোসাইটির কাউন্সিল নির্বাচনও পিছিয়ে দেওয়া হয়।
সম্প্রতি আবার এই নির্বাচনে উদ্যোগ নেওয়া হলে গত এপ্রিলে প্যানেল আহ্বান করা হয়। এর প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনটি প্যানেলের প্রস্তাব জমা পড়ে। কিন্তু যাচাই শেষে প্যানেল-১-কে রেখে বাকি দুটি প্যানেল বাদ দেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার এএসবির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমান খান সদস্যদের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, “এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ কর্তৃক গত ৭ এপ্রিল জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৬-২৭ মেয়াদের কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য প্যানেল আহ্বান করা হয়েছিল। ওই বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এএসবি কার্যালয়ে তিনটি প্যানেল জমা পড়ে (যার মধ্যে একটি অসম্পূর্ণ ছিল)।
“এর প্রেক্ষিতে ১২ জুলাই অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের সভায় সোসাইটির প্রাসঙ্গিক বিধান অনুযায়ী প্যানেলগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গ্রহণ করা হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্যানেলকে বৈধ এবং গঠনতান্ত্রিক প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাকি দুটি প্যানেলে গঠনতন্ত্রের ২৮ ও ৩৪ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি অনিয়ম ধরা পড়ে।
“বাদ প্যানেল দুটিতে এক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিধিমালার অধীনে একই ব্যক্তি একই নির্বাচনে দুটি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারায় এই ধরণের অন্তর্ভুক্তিকে অভূতপূর্ব, নজিরবিহীন এবং অসাংবিধানিক বলে বিবেচনা করেছে।”
এসএসবি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাদ পরা প্যানেল ২ ও ৩-এ ড. মিহির কুমার রায় নামে এক সদস্যের নাম ছিল। তিনি পেশায় গবেষক। তিনি একটি প্যানেলে সদস্য হিসেবে এবং আরেকটি প্যানেলে কার্যনির্বাহী পদে দাঁড়িয়েছিলেন।
এশিয়াটিক সোসাইটির গঠনতন্ত্রে ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সোসাইটির সব কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ১ জন সভাপতি, ৩ জন সহ-সভাপতি, ১ জন কোষাধ্যক্ষ, ১ জন সাধারণ সম্পাদক, ১ জন সম্পাদক, ১০ জন সদস্য (নির্বাচনের মাধ্যমে) এবং ২ জন কো-অপ্ট করা ফেলো সদস্যের সমন্বয়ে ১৭ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করা হবে।
সে অনুযায়ী কাউন্সিল নির্বাচনের জন্য প্রতিটি প্যানেলকেই ১৭ জন প্রার্থী দিতে হতে হয়। এর কম প্রার্থী দিলে তা বিবেচিত হয় অপূর্ণাঙ্গ হিসেবে। আর সে যুক্তিতেই প্যানেল-২ ও ৩ কে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। কারণ মাত্র দুই জনের নাম দিয়ে ছিল প্যানেল-৩। ফলে ওই প্যানেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেয় যাচাইবাছাই কমিটি।
অন্যদিকে ১৭ প্রার্থীর নাম থাকলেও মিহির কুমার রায়ের নাম বাদ যাওয়ায় প্যানেল-২ এর সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জনে। আর এ কারণেই প্যানেলটিকে ‘অপূর্ণাঙ্গ’ ঘোষণা করে বাদ দেওয়া হয়।
এএসবির গঠনতন্ত্রের ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, “নির্বাচনের প্রার্থীদের কর্মকর্তা বা পদাধিকারীদের নামের একটি প্যানেল আকারে নির্ধারিত ফরমে প্রস্তাব করা যেতে পারে। এই ধরনের সকল প্রস্তাবনা প্রকৃত সদস্যদের দ্বারা যথাযথভাবে প্রস্তাবিত ও সমর্থিত হতে হবে এবং প্রতিটি যোগ্য প্রার্থী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হতে হবে। এ ধরনের প্রস্তাবগুলো কাউন্সিলের দ্বিতীয় বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের কাছে জমা হতে হবে এবং কাউন্সিল প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের জন্য সদস্যদের সামনে পেশ করবে। তবে শর্ত থাকে যে, একের বেশি প্যানেল না থাকলে, ওই একটি প্যানেলকেই বিধি মোতাবেক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হবে।”
অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এই দুই অনুচ্ছেদে এক প্রার্থী দুই প্যানেল থেকে প্রার্থী হলে সেই প্যানেলগুলো বাতিল হওয়ার সুস্পষ্ট কোনো নিয়ম নেই। আর বাদ পড়া প্যানেলের প্রার্থীদের অভিযোগও সেখানেই।
সংস্থার সাবেক ও বর্তমান সদস্যরাও বলছেন, এক ব্যক্তি দুই প্যানেল থেকে নির্বাচনে প্রার্থী নিলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল বাদ দেওয়ার নিয়ম ও নজির নেই।
এ নিয়ে এএসবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জয়ী ঘোষিত প্যানেল-১ এর সভাপতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এরকম পরিস্থিতি এর আগে কখনো সৃষ্টি হয়নি। আমাদের যে গঠনতন্ত্র তা অনেক আগের। একজন প্রার্থী দুই প্যানেলে দাঁড়ানো এবং বাদ দেওয়ার কোনো নজির নেই। এখানে এক প্রার্থী যখন দুই প্যানেলে দাঁড়িয়েছে, তখন পূর্ণাঙ্গ (যেটা বাতিল হয়েছে) প্যানেলের নির্বাচনে যাওয়াকে দুর্বল করে দিয়েছে।”
এ নিয়ে বাদ পড়া প্যানেল-১ এর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আকসাদুল আলম বলেন, “প্রথমত একজন ব্যক্তি দুই প্যানেল থেকে নির্বাচনে অংশ নিলে দুটি প্যানেলকে একসাথে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কোথাও উল্লেখ নেই এবং নজিরও নেই। এ ক্ষেত্রে তারা যে আমাদের কী কী কারণে বাদ দিয়েছে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা আমাদের দেননি। এশিয়াটিক সোসাইটিতে এক ধরনের গোষ্ঠীতন্ত্র চলে আসছে, তারা সেটাই করেছে। এখানে একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচন না দিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটির গণতান্ত্রিক যাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।”
এএসবি সদস্য ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক হুমায়ুন কবির বলেন, “এশিয়াটিক সোসাইটির মত একটি প্রতিষ্ঠানে গঠনতন্ত্রের বাইরে গিয়ে কাউন্সিল কর্তৃক একটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেলকে বাতিল করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। সোসাইটির সদস্যগণের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে সোসাইটিকে একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য সকলের প্রচেষ্টা থাকা উচিত।”
এদিকে কাউন্সিল সদস্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, “বর্তমান কাউন্সিল কোনো প্যানেলকে নির্বাচন করা থেকে বাদ দেয়নি। যখন তিনটি প্যানেল জমা হয়েছে, সেখানে একজন ব্যক্তিকে দুই প্যানেলে পাওয়া গেছে। এমনটা এর আগে কখনো হয়নি। এ ক্ষেত্রে আমরা আইনজ্ঞের মতামতের জন্য দিয়েছি। তারা যে মতামত দিয়েছে, সেটা কাউন্সিল করেছে।”
তবে কাউন্সিল সদস্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানী ও অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলছেন, “আইনজ্ঞের মতামত নেওয়ার আগেই কাউন্সিল পূর্ণাঙ্গ প্যানেলটি (প্যানেল-২) বাতিল করেছে। আমরা সেটার ব্যাপারে নোট অব ডিসেন্ট জানিয়ে চিঠি দিয়েছি। এরপরই তারা আইনজ্ঞের মতামত চেয়েছে।”
এ বিষয়ে এএসবির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা প্রথমেই প্যানেলটিকে বাতিল করেছি। কিন্তু কাউন্সিলের দুজন সদস্য যখন নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে, আমাদের বাতিল করার বিষয়টি আইনগতভাবে বৈধ কিনা জানতে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে মতামত জানতে চেয়েছি। সেখানে অ্যাটর্নি জেনারেল আমাদের গঠনতন্ত্র দেখে মতামত জানিয়েছে যে, হ্যাঁ এখানে একজন ব্যক্তি দুটি প্যানেলে নাম দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনৈতিক কাজ করেছেন। যেটা আমরা জরুরি একটা কাউন্সিল করে সদস্যদের জানিয়েছি।”
তবে গঠনতন্ত্রের নিয়ম না থাকার পরও কেন পুরো প্যানেল বাতিল হল জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনজীবীর থেকে আমরা মতামত নিয়েছি। প্রত্যেক কাউন্সিল সদস্য এ বিষয়ে একমত ছিলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল যে মতামত দেবেন তা গৃহীত হবে।”
তবে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামতে কী লেখা আছে সেটা জানতে চাইলে অধ্যাপক ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, “এটা পাবলিক করার মত ডকুমেন্ট না।”
স্বার্থের সংঘাত?
এএসবি নির্বাচনে এক প্যানেলের প্রার্থীদের অন্য প্যানেলের প্রার্থী বাদ দেওয়া নিয়ে ‘স্বার্থের সংঘাতের’ প্রশ্নও উঠেছে।
বাদ পড়া প্যানেলের প্রার্থীরা বলছেন, বর্তমান কাউন্সিলের ১৭ সদস্যের মধ্যে অন্তত ৮ জন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। যারা অন্য প্যানেলকে নির্বাচন করতে ‘চরম সাংবিধানিক অনিয়ম ধরা পড়ার’ অভিযোগ তুলে বাদ দিয়েছেন। এখানে ‘স্বার্থের সংঘাত’ হয়েছে।
এ নিয়ে সংস্থার সদস্য মামুন আল মোস্তফা বলেন, “এটা স্পষ্ট স্বার্থের সংঘাত তৈরি করে। একজন কাউন্সিল সদস্য চাইতে পারেন তিনি পরের কাউন্সিলে সদস্য হবেন। এ ক্ষেত্রে তারা যে অন্য প্যানেলকে বাদ দেবে, তা যে কেউ বুঝতে পারবেন।”
বাতিল হওয়া প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী অধ্যাপক আকসাদুল আলম বলেন, “কাউন্সিল যে প্রথমে আমাদের বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা তারা করতে পারে না। কেননা একজন প্রার্থী আরেকজন প্রার্থীকে বাতিল করছেন, তা অত্যন্ত হাস্যকর। সেখানেই স্বার্থের সংঘাত হয়েছে। প্রথমে স্বার্থের সংঘাতমূলক সমস্যাটি নিরসণ করেই পরে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। গঠনতন্ত্রে একটা প্যানেলকে নজিরবিহীন বলে যে বাতিল করল, তা যেভাবে করেছে, এ ক্ষেত্রেও কী এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার ছিল না?”
বর্তমান কাউন্সিলের যে ৮ জন জয়ী প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন তারা হলেন- অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের সাবেক প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রহিম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, অধ্যাপক আশা ইসলাম নাঈম, অধ্যাপক আব্দুল বাছির, অধ্যাপক নাজমা খান মজলিস, অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন।
এ বিষয়ে আটজনের মধ্যে তিন জনের সাথে কথা বলেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। বাকিদের ফোনে যোগাযোগ করা হলেও পাওয়া যায়নি ।
তাদের মধ্যে কাউন্সিল সদস্য ও ‘বিজয়ী ঘোষিত’ প্যানেলের সভাপতি অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া বলেন, “এখানে কাউন্সিল সদস্য নির্বাচন করলে সেখানে কাউন্সিলে মতামত দিতে পারবেন না, এরকম কোনো বিধান নেই।”
কাউন্সিল সদস্য ও ‘বিজয়ী ঘোষিত’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক লুৎফর রহমান বলেন, “আমাদের গঠনতন্ত্র মোতাবেক একজন প্রার্থী সদস্য তিনবার একটানা নির্বাচন করতে পারে। আর জয়ী হলে কাউন্সিল সদস্য হয়। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলে মতামত দেওয়ার বিষয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই।”
কাউন্সিল সদস্য ও বিজয়ী ঘোষিত প্যানেলের সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুর রহিম বলেন, “কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আর এটাতে অ্যাটর্নি জেনারেলের মতামত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিল সদস্যরা মতামত দিতে পারবেন কিনা তা অ্যাটর্নি জেনারেলের সুপারিশে এসেছে।”
তবে সুপারিশের কোথাও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি এসেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা বলছেন, যেহেতু নতুন একটি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, সে ক্ষেত্রে এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীকে নির্বাচন করতে বাদ দিতে পারবেন কিনা তার সুরাহা হওয়া উচিত।