১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢামেকে গৃহকর্মীর লাশ ফেলে যাওয়ার ঘটনায় তিনজন রিমান্ডে, 'আত্মহত্যা' দাবি

“ভেবেছিল তারা ফেঁসে যাবে, এজন্য হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে চলে আসে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Aug 2026, 04:29 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে গৃহকর্মী মীম আক্তারের মরদেহ ফেলে পালানোর অভিযোগে করা হত্যা মামলায় তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবদেনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন রিমান্ডের আদেশ দেন।

প্রসিকিউশন পুলিশেএর এসআই শাহ আলম রিমান্ডের তথ্য জানিয়েছে। 

তিন আসামি হলেন-গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী গৃহকর্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) এবং শ্বশুড় এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)। 

ফয়সাল পেশায় টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার, তার শ্বশুড় আব্দুর রাজ্জাক ওষুধ ব্যবসায়ী এবং রেশমা গৃহিনী। এদিকে ওই গৃহকর্মী ‘আত্মহত্যা করেছে’ মর্মে দাবি করেছেন আসামিপক্ষ ও তাদের আইনজীবী।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, “মীম আক্তার (১৫) প্রায় এক বছর ধরে ফয়সাল আহমেদের বাসায় গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করছিল। কাজ শুরুর পর থেকেই তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতে। নির্যাতনের কথা মীম ফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার পরিবারকে জানালে তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

“গত ১২ অগাস্ট অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মীমের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়। পরে প্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।”

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, “এর মধ্যে ১৩ অগাস্ট সকালে ফয়সাল মীমের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সে বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ১৭ অগাস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা আসামিদের বাসায় গিয়ে তার খোঁজ করলে তাদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। 

“২০ অগাস্ট খবর পেয়ে মীমের পরিবার শাহবাগ থানায় যায় এবং পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে সংরক্ষিত মরদেহ শনাক্ত করে।”

নিহত মীম কুমিল্লা জেলার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা ২১ অগাস্ট শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এলাকায় দীর্ঘদিনের বাসস্থান ছেড়ে ডেমরা এলাকায় আত্মগোপন করে। ২০ অগাস্ট রাতে অভিযান চালিয়ে ডেমরার বামৈল এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

২৪ অগাস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাহফুজা আক্তার আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন সোমবার।

এদিন শুনানিতে তাদের আদালতে হাজির করা হয়।

আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট ইলিয়াস কাঞ্চন রিমান্ড বাতিল করে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রার্থনা করেন। 

তিনি বলেন,"ভিকটিম সুইসাইড করে। লাশ নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে যায়। লাশ রেখে চলে আসে। এটায় তাদের অপরাধ। আর ফয়সালের শ্বশুড় আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার কিছুই জানেন না। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"

এসময় বিচারক আইনজীবীর কাছে জানতে চান, "ভিকটিমের সঙ্গে সম্পর্ক কি?''

আইনজীবী বলেন, "ফয়সালের বাসার গৃহকর্মী ছিল।"

এরপর ওই আইনজীবী বলেন, "ব্যক্তিগতভাবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, পরিবারের সাথে ভিকটিমের বিরোধ ছিল। পারিবারিক বিরোধ থেকেই সে আত্মহত্যা করে।"

এরপর বিচারক জানতে চান, "লাশ উদ্ধার বাসা থেকে?"

আইনজীবী বলেন, "মেডিকেল থেকে। তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়।"

পরে আদালত প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।

এদিকে কাঠগড়ায় থাকাবস্থায় গৃহিনী রেশমার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "মীম সুইসাইড করেছে। ফ্যানের সাথে ঝুলে সুইসাইড করেছে।"

আসামিদের হাজির করা হবে জেনে স্বজনরা আদালতে হাজির হন। ফয়সাল ও রেশমা দম্পতির চার বছরের বাচ্চাকেও নিয়ে আসেন তারা। এ সময় কয়েকজন স্বজনকে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

ফয়সালের চিকিৎসক ভাই এস এম সায়েম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "ঘটনাটা সকালের। মেয়েটা ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল। মুখ দিয়ে লালা পড়ছিল। প্রস্রাব করে দিয়েছিল। তবে পা একটু নড়াচড়া করছিল। আমার ভাই এটা দেখে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। এটায় তাদের বড় ভুল ছিল। তারা ভেবেছিল, তারা ফেঁসে যাবে। এজন্য হাসপাতালে লাশ ফেলে রেখে চলে আসে।”

সায়েম বলেন, "আমি আমার ভাইকে বলি, আমি ডাক্তার মানুষ, বিষয়টি আমাকে জানাননি কেন? এখন ভুগতেছে।"