১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘গণমাধ্যমকর্মী আইন’ নিয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া শুরু

“সংবাদমাধ্যম কর্মীরা শ্রম আইনের আওতায় যে সুবিধাগুলো পায়, সে সুবিধাগুলোর শতভাগ সুরক্ষা প্রস্তাবিত আইনে আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে,” বলেন প্রতিমন্ত্রী।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Feb 2025, 04:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:34 AM

গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলী) আইন, ২০২১ এর খসড়ার বিষয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও অংশীজনদের মতামত নেওয়া শুরু করেছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

রোববার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সভাপতিত্বে পর্যালোচনা সভায় মতামত নেওয়া শুরু করে মন্ত্রণালয়।

সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম কর্মী আইনে শ্রম আইনের অধীনে সাংবাদিকদের প্রাপ্য সব ধরনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

“সংবাদমাধ্যম কর্মীরা শ্রম আইনের আওতায় যে সুবিধাগুলো পায়, সে সুবিধাগুলোর শতভাগ সুরক্ষা প্রস্তাবিত আইনে আছে কিনা সেটা খতিয়ে দেখা হবে। যদি কোথাও ব্যত্যয় থাকে, সে জায়গা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রম আইনের অধীনে সংবাদমাধ্যম কর্মীরা যে সুরক্ষা পান, তার কোনো ব্যত্যয় বা ঘাটতি প্রস্তাবিত গণমাধ্যম কর্মী আইনে থাকবে না।”

তিনি বলেন, “সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। এ জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে গণমাধ্যম কর্মী আইন পর্যালোচনা করা হচ্ছে।”

আগে গণমাধ্যমকর্মীরা চলতেন 'দ্য নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (চাকরির শর্তাবলী) আইন- ১৯৭৪' এর আওতায়। এর সঙ্গে শ্রম আইনের কিছু বিষয় সাংঘর্ষিক হচ্ছিল। পরে সাংবাদিকদেরকে শ্রম আইনের আওতায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদের শ্রমিক হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।

দ্য নিউজপেপার এমপ্লয়িজ (চাকরির শর্তাবলী) আইনে সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও প্রেস কর্মচারীদের চাকরির শর্ত, আর্থিক বিষয় ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করা ছিল।

সরকার ওই আইনকে রহিত করে সব শ্রমিকের জন্য ২০০৬ সালে 'শ্রম আইন' প্রণয়ন করে, যাতে সংবাদপত্রের সাংবাদিক, প্রেস শ্রমিক ও প্রেস কর্মচারীদের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

কিন্তু সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন গণমাধ্যমের কর্মীদের চাকরির ধরন ভিন্ন হওয়ায় ২০১৭ সালে সবার জন্য সমন্বিত করে ‘গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলী)’ নামে নতুন আইন তৈরির কাজে হাত দেয় সরকার। এরপর ২০২২ সালের মার্চে তা সংসদে তোলা হলেও নানা আলোচনা সমালোচনার মধ্যে বিষয়টি আটকে যায়। 

ওই বিলে বলা হয়, ওয়েজ বোর্ড সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা, বেসরকারি টেলিভিশন, বেতার ও নিবন্ধিত অনলাইন মাধ্যমের জন্য প্রয়োজনে পৃথক পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে। আগে শুধু সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার জন্য এই ওয়েজ বোর্ড গঠন করা হত।

গণমাধ্যমে পূর্ণকালীন কর্মরত সাংবাদিক, কর্মচারী ও নিবন্ধিত সংবাদপত্রের মালিকানাধীন ছাপাখানাসহ নিবন্ধিত অনলাইন গণমাধ্যমে বিভিন্নকর্মে নিয়োজিত কর্মীদের 'গণমাধ্যমকর্মী' বলা হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের ৩টি বিভাগ করা হয়েছে আইনের খসড়ায়। সেগুলো হলো– অস্থায়ী বা সাময়িক, শিক্ষানবিশ ও স্থায়ী।

প্রস্তাবিত আইনে কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে সপ্তাহে (একদিন ছুটি বাদে অন্য ছয় দিন) ৪৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করালে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার জন্য আর্থিক সুবিধা দিতে হবে।

প্রস্তাবিত আইনটি সংসদে তোলার পর সম্পাদক ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন অংশ এর বিরোধিতা করে বিবৃতি দেয়। তাদের ভাষ্র, এ আইন কার্যকর হলে সংবাদপত্র শিল্পের বিকাশ ‘বাধাগ্রস্ত’ হবে।

তবে রোববারের বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সব অংশীজনদের সহযোগিতা ও মতামতের ভিত্তিতে গণমাধ্যম কর্মী আইন ‘সুন্দর পরিসমাপ্তির দিকেই’ যাবে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের গণমাধ্যম কর্মী আইনের খসড়ার ওপর লিখিত মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আলতাফ উল আলম, যুগ্ম সচিব মো. আসাদুজ্জামান বৈঠকের উপস্থিত ছিলেন।

অংশীজনদের মধ্যে ছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এটকো)-এর সহসভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, এডিটরস গিল্ডের সভাপতি মোজাম্মেল বাবু, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য ফরিদ হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, অনলাইন নিউজ পোর্টাল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ওনাব)-এর সভাপতি মোল্লাহ আমজাদ হোসেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি-এর সভাপতি একরামুল হক সায়েম, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম-এর সভাপতি মো. রেফায়েত উল্লাহ মীরধা, এনার্জি রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মো. শামীম জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ সংবাদপত্রের কর্মচারী ফেডারেশনের মহাসচিব মো. খাইরুল ইসলাম, বাংলাদেশ আঞ্চলিক সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন মনজু, বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, জাতীয় সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি মো. নুর হাকিম, জাস্টিস ফর জার্নালিস্ট এর সভাপতি মো. কামরুল ইসলাম।