১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আমার বিশ্বাস, তাদের ‘সন্তুষ্ট’ করতে পেরেছি: হেফাজতের আপত্তি প্রসঙ্গে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

“যোগাযোগ ও কথাবার্তা যত বেশি হবে, ভুল বোঝাবুঝি নিরসন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 07:58 PM

Updated : 16 Sep 2026, 12:59 PM

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক হেফাজতে ইসলামসহ আরও কয়েকটি ইসলামী সংগঠন যে আপত্তি তুলেছিল, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন শামীম কায়সার লিংকন।   

শুক্রবার শপথ নেওয়ার পর নিজের প্রথম কার্যদিবসে রোববার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। 

শামীম কায়সার বলেন, “আমি গতকালও জামিয়া মাদানিয়া বারিধারায় গিয়েছি। জমিয়তে উলাময়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের অনেক শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামদের সঙ্গে কথা বলেছি। গতকাল আমি যাদের সাথে বসেছি, তাদের কিছু প্রশ্ন ছিল। আমার বিশ্বাস, আমি তাদের সন্তুষ্ট করতে পেরেছি এবং উনারা আমাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

“বাংলাদেশের প্রথিতযশা বিভিন্ন মতের ওলামায়ে কেরাম যারা আছেন, তাদের সকলের সহাবস্থান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ নিয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করে। শুধু ইসলাম না, অন্যান্য ধর্মের নেতৃবৃন্দ বা ধর্মীয় গুরু আছেন, তাদের সকলের কাছে আমি যাব। টুকটাক যে বিভ্রান্তি আছে সেগুলো দূর হয়ে যাবে।”

গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়ে ২১ অগাস্ট বিবৃতি দেয় হেফাজতে ইসলাম। সরকারকে এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। 

হেফাজতের ভাষ্য, শামীম কায়সার লিংকন দেশের প্রচলিত পীর-মাশায়েখ, তাবলিগ জামাত এবং ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত চার মাযহাবের চেতনার বিরোধী মতাদর্শে বিশ্বাসী। যেহেতু ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিশেষায়িত একটি ক্ষেত্র। এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ইসলামী মূল্যবোধে শ্রদ্ধাশীল এবং উলামায়ে কেরামের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির হাতে দেওয়া উচিত। 

একই দাবি জানিয়েছেন সুফিবাদে বিশ্বাসী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতাও।

তাদের আপত্তি বিষয়ে শামীম কায়সার বলেন, “একটি নির্বাচনে একটি দলকে শতভাগ মানুষ ভোট দেয় না, পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে। কোনো একটি অ্যাপয়নমেন্টকে শতভাগ মানুষ পছন্দ করবে, বিষয়টি এরকম নয়। 

“অনেক সময় একই কথা যদি সরাসরি পরিষ্কার করা সম্ভব না হয় কিংবা কোনো খণ্ডিত তথ্য যায়, সে ক্ষেত্রে একই কথা অন্যভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। যোগাযোগ ও কথাবার্তা যত বেশি হবে, যদি কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি থাকে সেগুলো নিরসন হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ।” 

সব ধর্ম ও মতের মানুষ যাতে নিজের জায়গা থেকে কথা বলতে পারে, সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করার কথাও বলেন নবনিযুক্ত ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি বিরল বিষয় হল, এখানে অধিকাংশ মানুষই ধার্মিক। এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মপ্রাণ মানুষের দেশ। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ যদি তার ধর্মগ্রন্থ অনুসরণ করে, সেটা যদি ধারণ করতে পারে, তাহলে এ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আরও বৃদ্ধি পাবে।”

এ সময় ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিবুল্লাহিল বাকী, হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব আয়াতুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয় ও আওতাধীন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মত বিনিময় করেন।