হিলারি ক্লিনটন পুরস্কার পেলেন ইউনূস
ইউনূস বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের পঞ্চাশ বছর উদযাপনের এই সময়ে মিলেছে এই স্বীকৃতি। এই পুরস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ‘গ্রামীণ পরিবারে’ ব্যাপক উৎসাহব্যাঞ্জক বার্তা যাবে।”
হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন পুরস্কার পেয়েছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী বাংলাদেশি মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাসটন হলে এক আয়োজনে তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।
শুক্রবার ফেইসবুক পাতায় প্রকাশ করা এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই পুরস্কার বিরতণী আয়োজনের তথ্য তুলে ধরেছে ইউনূস সেন্টার।
হিলারি ক্লিনটন এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি (জিআিইডব্লিউপিএস) যৌথভাবে এই পুরস্কার দিয়ে থাকে।
এবারের আয়োজনে মোট চারজনকে পুরস্কৃত করা হয়। ইউনূসের সঙ্গে হিলারি ক্লিনটন পুরস্কার পেয়েছেন ভারতের সেলফ-এমপ্লয়েড উইমেন’স অ্যাসোসিয়েশনের (এসইডব্লিউএ) পরিচালক রিমা নানাবাতি এবং ফ্যাশন ডিজাইনার টরি বার্শ।
তাদের সঙ্গে জর্ডানের মাইক্রোফান্ড ফর উইমেনের বোর্ড চেয়ার মুনা সুখতিয়ান পেয়েছেন জর্জটাউন ইউনিভার্সিটি অ্যাম্বাসেডর্স অ্যাওয়ার্ড।
ইউনূস সেন্টার বলেছে, অনুষ্ঠানে প্রায় চারশ অতিথির মধ্যে ছিলেন প্রায় ২৫ দেশের রাষ্ট্রদূত, উদ্যোক্তা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও গবেষক।
ক্লিনটন পরিবারের সঙ্গে মুহাম্মদ ইউনূসের ব্যক্তিগত পর্যায়ে বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। হিলারি ক্লিনটন ১৯৯৫ সালে তার মেয়ে চেলসি ক্লিনটনকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন, তখন গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শন করেছিলেন।
সে কথা স্মরণ করে হিলারি ক্লিনটন অনুষ্ঠানে বলেন, “যেভাবে নারীরা আত্মনির্ভরশীল হয়েছে এবং নিজের নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে তা অভূতপূর্ব। নিজের কাজকে বাংলাদেশের নারীদের বাইরে নিয়ে গেছেন অধ্যাপক ইউনূস এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছেন।”
ইউনূস বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকের পঞ্চাশ বছর উদযাপনের এই সময়ে মিলেছে এই স্বীকৃতি। এই পুরস্কারের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ‘গ্রামীণ পরিবারে’ ব্যাপক উৎসাহব্যাঞ্জক বার্তা যাবে।”
ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে নারীদের নিজেদের ‘জীবন গড়ার’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এখন লাজুক, নিশ্চুপ ও দরিদ্র নারী আপনি দেখবেন না। আত্মবিশ্বাস নারীদের আপনি দেখবেন, যারা নিজেদের সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা নিজেরাই বলেন।
“তাদের কথার গুরুত্ব থাকে। কেননা, তারা নিজেদের ব্যাংক পরিচালনা করেন। তারা গ্রামীণ ব্যাংকের মালিক।”
পরবর্তী প্রজন্মকে চাকরি খোঁজার বদলে অন্যদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরির জন্য প্রস্তুত হওয়ার তাগিদ দিয়ে ইউনূস বলেন, “আমরা চাকরি প্রার্থী নই, আমরা চাকরিদাতা।”
‘শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তোলার জন্য’ গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে সৃজনশীল ও উদ্যোক্তা মনোভাবাপন্ন হিসাবে গড়া।”
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট এদুয়ার্দো এম পেনিয়েলভার, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ইউনূসের মেয়ে, অপেরা শিল্পী মনিকা ইউনূসের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরস্কারের বিতরণী অনুষ্ঠান শেষ হয়।
