১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতীয়করণসহ ১০ দাবি শিক্ষক জোটের

“বেগম খালেদা জিয়ার যে স্বপ্ন ছিল, যে প্রতিশ্রুতি ছিল এই প্রতিশ্রুতির অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Aug 2026, 04:57 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:46 PM

এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করাসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরেছে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট।

শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি তুলে ধরেন জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

তিনি বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ আজকে বাংলাদেশে শুধু শিক্ষকদের দাবি না। এটাও অভিভাবকদের দাবি। এইটা সাধারণ জনগণের দাবি। কারণ এই জাতীয়করণ যদি সফল হয় শুধু শিক্ষকরা যে উপকৃত হবে, এমন না। 

“বরং প্রত্যেকটা অভিভাবক তার সন্তানকে নামমাত্র ২০ থেকে ৩০ টাকা মাসিক বেতন দিয়ে তারা তার সন্তানকে পড়াতে পারবে।”

অধ্যক্ষ আজিজী বলেন, “আপনারা জানেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বাংলাদেশে বারবার যিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন; তিনি একটি প্রোগ্রামের সকল ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সামনে বলেছিলেন যে বিএনপি সরকার যদি রাষ্ট্র ক্ষমতায় কোনোদিন আসে আমরা এমপিভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করব। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি এই সরকার এখন পর্যন্ত জাতীয়করণের ব্যাপারে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। 

“… বেগম খালেদা জিয়ার যে স্বপ্ন ছিল, যে প্রতিশ্রুতি ছিল এই প্রতিশ্রুতির অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের কাছ থেকে পদক্ষেপ দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা।”

এনটিআরসিএর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া চললেও তা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এ নিয়োগ কমিটির হাতে ফরিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। 

"আমরা আজকের এই প্রোগ্রাম থেকে স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিতে চাই। যদি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের নিয়োগ কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো রকমের ষড়যন্ত্র হয়; পরের দিন থেকে সারা বাংলাদেশে জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের নেতৃত্বে ছয় লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারী শহীদ মিনারের আন্দোলনের মত দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে ইনশাল্লাহ।”

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও শিল্পায়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা। দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি ছাড়া কোনো দেশ উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে না। অথচ সম্ভাবনাময় এই খাতটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা, বৈষম্য এবং সুশাসনের অভাবে জর্জরিত।”

আবুল বাশার জোটের তরফে ১০ দফা দাবি তুলে ধরেন—

>>এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করতে হবে; প্রণয়ন করতে হবে আন্তঃবদলি নীতিমালা।

>>ট্রেড ইন্সট্রাক্টর পদ পুনঃবহাল করতে হবে।

>>প্রতি মাসের ১ তারিখে বেতন দিতে হবে; কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও অধিদপ্তরের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

>>বিএড, উচ্চতরসহ সব ধরনের স্কেল নিয়ে কারিগরি অধিদপ্তরের হয়রানি বন্ধ এবং স্কেলের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক করতে হবে।

>> শিক্ষক-কর্মচারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নিরাপদ রাখতে ‘শিক্ষক-কর্মচারী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে।

>>সব এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ও উন্নতমানের ল্যাব স্থাপন করতে হবে। 

>>কারিগরি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে নতুন কারিকুলাম উপযোগী দেশি ও বিদেশি মানসম্মত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

>>প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষায় অতি দ্রুত 'সহকারী প্রধান শিক্ষক (কারিগরি)' পদ সৃষ্টি করতে হবে।

>>কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুবিধার্থে একটি স্বতন্ত্র কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী পরিষদের উপদেষ্টা মাহবুবুর রহমান, পরিষদের সভাপতি মো. মতিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রাশেদ মোশারফ, এমপিভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সদস্য সচিব আশরাফুজ্জামান হানিফ, বাংলাদেশ ভোকেশনাল শিক্ষক সমিতির যুগ্ম মহাসচিব নুরুল ইসলাম সিয়াম, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী পরিষদের সহসভাপতি হামিদুর রহমান, অর্থ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট ঢাকা মহানগরীর সমন্বয়ক মো. বাশির উদ্দিন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোসাব্বেরুজ্জামান, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষক কর্মচারী পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিত অধিকারী, আশিকুর রহমান বাবু, মো আলামিন, মো. মুরছালিন হক, আলমগীর হোসেন, মর্জিনা খাতুন।