Published : 21 Nov 2025, 06:58 PM
একাত্তরে পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযান শুরুর দিনটিকে বরাবরের মতই নানা আয়োজনে উদযাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর শুক্রবার দ্বিতীয়বারের মত পালিত হবে সশস্ত্র বাহিনী দিবস।
বুধবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরদিপ্তর- আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, ফজরের নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে।
দেশের সকল সেনানিবাস, নৌ ঘাঁটি ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটির মসজিদে দেশের কল্যাণ ও সমৃদ্ধি, সশস্ত্র বাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও অগ্রগতি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হবে মোনাজাতে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়ে পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু করেছিল। এর স্মরণে প্রতি বছর এই দিনটিকে সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন।
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসের শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা।
এরপর সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন নিজ নিজ বাহিনীর পক্ষ থেকে শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
তিন বাহিনী প্রধানরা পরে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এবং বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দিনটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে ১০১ জন নির্বাচিত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের উত্তরাধিকারীদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক বিতরণ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক), প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (জাতীয় ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টিটিভ), সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমান বাহিনী প্রধান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ অসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বিকাল ৪টায় ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।
প্রধান বিচারপতি, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিরা, প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টারা, উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পদমর্যাদার ব্যক্তিরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা, বিচারপতিরা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব, মুখ্য সচিব, তিন বাহিনীর সাবেক প্রধানরা, সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা, স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীরশ্রেষ্ঠর উত্তরাধিকারীরা, স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ঢাকা এলাকায় বসবাসরত খেতাবপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য বা তাদের উত্তরাধিকারীরা, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের শিকার সেনাসদস্যদের স্ত্রী- উত্তরাধিকারীরা, স্বাধীনতা পুরষ্কার ও একুশে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তিরা, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা, ছাত্র-জনতার জুলাই-অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা, উচ্চপদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা এবং তিন বাহিনীর কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অতিথি হয়ে যোগ দেবেন অনুষ্ঠানে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।
ঢাকা ছাড়াও বরিশাল, কক্সবাজার, বগুড়া, সিলেট, ঘাটাইল, চট্টগ্রাম, যশোর, রংপুর ও খুলনা সেনানিবাস ও ঘাঁটিতে সংশ্লিষ্ট এরিয়া সদর দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাড়াও ঢাকার বাইরে দেশের অন্যান্য সেনা গ্যারিসন, নৌ জাহাজ ও স্থাপনা এবং বিমান বাহিনী ঘাঁটিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিনের কর্মসূচি রয়েছে।
ঢাকা, খুলনা, চাঁদপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামে বিশেষভাবে সজ্জিত নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ২১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সবার দেখার জন্য নোঙ্গর করা অবস্থায় রাখা হবে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার বাংলা সংবাদের পর বাংলাদেশ টেলিভিশনে সশস্ত্র বাহিনীর পরিবেশনায় সম্প্রচার করা হবে ‘বিশেষ অনির্বাণ’।
বাংলাদেশ বেতার শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় প্রচার করবে বিশেষ দুর্বার । এছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশনগুলো ‘বিশেষ অনির্বাণ’ অনুষ্ঠানটি পর্যায়ক্রমে সম্প্রচার করবে।
দিবসটি উপলক্ষে ২১ নভেম্বর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হবে। এছাড়াও সশস্ত্র বাহিনীর পরিচালনাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আয়োজন করা হয়েছে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার।
এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপিএত আইএসপিআর জানায়, ২১ নভেম্বর ঢাকা সেনানিবাসে যান চলাচল সীমিত থাকবে।
ঢাকা সেনানিবাসের রাস্তাগুলো (শহীদ জাহাঙ্গীর গেট থেকে স্টাফ রোড পর্যন্ত প্রধান সড়ক) যানজটমুক্ত রাখার লক্ষ্যে সেদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা এবং দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সেনানিবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বহনকারী যানবাহন ছাড়া সকল যানবাহনকে সেনানিবাস এলাকা দিয়ে চলাচল পরিহার করার অনুরোধ করা হয়েছে।