১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে সামগ্রিক অর্থনীতি টেকসই হবে: আমিন উর রশীদ

“প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন দেশে কৃষির উন্নয়ন হলে প্রধান অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Feb 2026, 05:33 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:58 PM

সমন্বিত পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হলে তা সামগ্রিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করবে বলে মন্তব্য করেছেন এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।

মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বুধবার দুপুরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, “কৃষি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি বিশ্বাস করেন দেশে কৃষির উন্নয়ন হলে প্রধান অর্থনীতি স্থিতিশীল হবে।”

বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বের অনেক দেশ বছরের ছয় থেকে আট মাস বরফে আচ্ছাদিত থাকে, তবুও তারা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যেখানে বারো মাস ফসল উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমি আমাদের বড় সম্পদ। বাংলাদেশকে সেরা ও সুন্দর রাষ্ট্রে পরিণত করতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

“মাছ ও ভাত বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে  অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। পৃথিবীর যেখানেই বাঙালি যান না কেন, তিনি ভাত ও মাছের স্বাদ খোঁজেন। এটি আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। সংশ্লিষ্ট সকল অভিজ্ঞ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে কৃষি উৎপাদনে বিশ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার জনকল্যাণে আন্তরিক। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা দায়িত্ব পালন করছি। দেশের আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

“সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। দুর্নীতিমুক্ত ও পেশাদারিত্বপূর্ণ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ইতিহাস সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।”

এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় যে সীমাবদ্ধতা ছিল, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, দেশের খাল-বিল, নদী-নালা ও জলাশয়সমূহ মৎস্যসম্পদের মূল ভাণ্ডার। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেক জলাশয় ভরাট ও দখল হয়ে গেছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব জলাশয় চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করা হবে। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সেক্টরভিত্তিক বৈঠকের মাধ্যমে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। 

“প্রধানমন্ত্রীও কৃষি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন এবং বিশ্বাস করেন যে কৃষির উন্নয়নই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।”

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের, মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন অধিদপ্তর ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।