১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জন্মাষ্টমীর দিনে গ্রন্থকেন্দ্রের নিয়োগ পরীক্ষা, সমালোচনা

সরকারি ছুটির দিনে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করায় এর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 09:21 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব জন্মাষ্টমীর দিনে দুই পদে নিয়োগের পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। 

প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে এ দুই পদের জন্য লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। 

এদিন উদযাপিত হতে যাচ্ছে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথী বা জন্মাষ্টমী। এদিন সরকারি ছুটির দিন।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র বলছে, চারটি শূন্য পদের নিয়োগের ছাড়পত্রের সময়সীমা ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে বলে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সরকারি ছুটির দিনে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করায় এর সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর।

তিনি বলেন, “ধর্মীয় উৎসবের দিনে এই ধরনের পরীক্ষা রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকারি পঞ্জিকায় জন্মাষ্টমীর সাধারণ ছুটি আগে থেকেই নির্ধারিত থাকার পরও কীভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে যায় তা আমাদের জানা নেই।"

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সাম্প্রতিক অফিস আদেশ ও বিজ্ঞপ্তির তথ্য বলছে, এ দপ্তরের দুই ক্যাটাগরির মোট চারটি শূন্য পদে ((ড্রাইভার-গ্রেড ১৫ এর তিনটি এবং অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক-গ্রেড ১৬ এর একটি) জনবল নিয়োগ দিতে এ লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানের এক বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং টেলিটকের মাধ্যমে খুদেবার্তা পাঠানোর বিষয়টি জানানো হয়।

এছাড়া কেন্দ্র পরিদর্শক হিসেবে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব বণ্টন করে পৃথক অফিস আদেশ দিয়েছে গ্রন্থকেন্দ্র।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইনামুল হক বলেন, চার শূন্য পদের বিপরীতে ১,৭৭৪ জন পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেছেন।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম বলেন, অনেক আগে এ পরীক্ষার তারিখ যখন নির্ধারণ করা হয়, তখন চলতি বছরের ছুটির পঞ্জিকা প্রকাশিত হয়নি। অনিচ্ছাকৃতভাবে দিনটি জন্মাষ্টমীর সঙ্গে মিলে গেছে।

“বিভাগীয় পদোন্নতি ও নির্বাচন কমিটি (ডিপিসি), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সবাই মিলে এ তারিখের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।"  

শেষ মুহূর্তে এখন পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করার সুযোগ না থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই নিয়োগের ছাড়পত্রের সময়সীমা আগামী ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। 

“তবে পরীক্ষা দুপুর ১২টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে। তাই প্রার্থীরা দিনের বাকি সময়ে তাদের আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।”