Published : 13 Sep 2025, 02:45 PM
বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ‘সুবিধাভোগী’ গোষ্ঠী তৈরি করেছিল, দেশের অর্থনীতিতে যাদের ভূমিকা ছিল না বলে দাবি করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সে ‘সুবিধাভোগীরা’ বাজার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করেছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার রাতে চট্রগ্রামে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
বক্তব্য শেষ করে তিনি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “শেখ হাসিনার পতনের পর আমাদের রিজার্ভ ১০ বিলিয়ন ডলারের মত ছিল। বিভিন্ন দেশের কাছে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে আমাদের দায় ছিল ৬ বিলিয়ন।
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আমরা সকল দায় পরিশোধ করেছি। বর্তমানে দেশের রিজার্ভের পরিমাণ ৩০ বিলিয়ন ডলার।”
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সরকারে কাছে প্রত্যাশা কী? জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসকেরা সুবিধাভোগী গোষ্ঠী তৈরি করেছিল। সম্পদের বণ্টন ছিল মারাত্মকভাবে সামঞ্জস্যহীন। যে গোষ্ঠী তারা তৈরি করেছিল, দেশের অর্থনীতিতে তাদের ভূমিকা ছিল না। বরং তারা বাজার ব্যবস্থাপনাকে অস্থিতিশীল করেছিল।
“ভবিষ্যতের সরকার যেন সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাজার পরিচালনা করে এবং নিরপেক্ষ সংস্কার করে, তাহলে বাজার ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হবে।”
তার মতে, বাজার ব্যবস্থাপনায় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
“বিগত রমজানে সরকারের অর্থ বিভাগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সামগ্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরবরাহ চেইন স্বাভাবিক রাখায় নিত্যপণ্যের দাম কম ছিল।”
ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটার পর বাজারকে সঠিক পথে পরিচালিত করা চ্যালেঞ্জ ছিল দাবি করে উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন বলেন, “আপনারা জানেন, তখন তথাকথিত সিন্ডিকেটের অনেক সদস্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল।
“তখন সাপ্লাই সাইড ঠিক রাখা ছিল খুবই জটিল। সরকারের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় সে অবস্থা থেকে আমরা উন্নীত হত সক্ষম হই। এটা সম্ভব হয়েছে ব্যবসায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের ফলে।”
দেশে পণ্য তৈরির কাঁচামালের অভাব রয়েছে তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে সে অভাব পূরণ করতে পারে।
শ্রমের উৎপাদনশীলতা, আর্থিক ও বাজার সুবিধাসহ অন্যান সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলে কাঁচামালের অভাব পূরণ করে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, “সঠিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে পাঁচ বছরেই বাংলাদেশকে সোনার খনিতে রূপান্তর সম্ভব।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা গবেষণা ব্যুরোর ‘ব্যবসার ভবিষ্যৎ: উদ্ভাবন, প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়ন’ বিষয়ক দুই দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সমাপনী আয়োজন ছিল হোটেল রেডিসন ব্লুতে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার।
সেখানে অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মুসলিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন ও ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. তৈয়ব চৌধুরী।
পরে বাণিজ্য উপদেষ্টা ব্যবসা বাণিজ্যে বিশেষ অবদান রাখায় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।