১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পৃথক দুই হত্যা মামলায় সুজন-ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানো হল

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, “"নুরুল ইসলাম সুজন এবং শাহজাহান ওমর জেলে আটকে রাখতে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 02:28 PM

Updated : 16 Sep 2026, 01:02 PM

রাজধানীর পৃথক দুই থানার দুই হত্যা মামলায় সাবেক রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন ও ঝালকাঠি-১ আসনের সাবেক এমপি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানো হল। 

ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত রোববার যাত্রাবাড়ী থানার পারভেজ হাওলাদার নামে এক যুবক হত্যা মামলায় নুরুল ইসলাম সুজনকে এ আদেশ দেন।

এছাড়া আরেক মেট্রোপলিটন মাহবুব আলমের আদালত বিএনপি নেতা শহীদ ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলায় শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ এ তথ্য দিয়েছেন।

গত ১৯ অগাস্ট নুরুল ইসলাম সুজনকে পারভেজ হত্যা মামলায় যাত্রাবাড়ী থানার এসআই জাকির হোসেন গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। 

আর আদাবর থানার এসআই মহেশ চন্দ্র সিংহ বিএনপি নেতা শহীদ ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলায় ২৪ অগাস্ট শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখেন রোববার। এদিন শুনানিতে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিলে দুনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন বলেন, "নুরুল ইসলাম সুজন ৫ মামলায় এবং শাহজাহান ওমর তিনটা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান। জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছালে নতুন করে তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। জেলে আটকে রাখতে তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হচ্ছে।"

পারভেজ হত্যা মামলায় বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার কাঁচাবাজারের সামনে আন্দোলনে অংশ নেন পারভেজ। এসময় আন্দোলনকারীদের উপর হাত বোমা নিক্ষেপ ও বেপরোয়াভাবে এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করা হয়। একটি গুলি পারভেজের মুখের বাম পাশে লেগে মাথার পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে কাছের যাত্রাবাড়ীর সালমান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনষ্টিক লিমিটেড এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”

 এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর নিহতের মা সেলিনা বেগম মামলা করেন।

ইসহাক জোমাদ্দার হত্যা মামলার বিবরণে আছে, সরকার পতনের দিন ৫ অগাস্ট আদাবর থানার শ্যামলী ক্লাব মাঠসংলগ্ন এলাকায় ৩০ নং ওয়ার্ডের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক জোমাদ্দার গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

এ ঘটনায় ইসহাকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। পরে ২০২৫ সালের ২ জুলাই আদাবর থানার এসআই মো. আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার শ্যামলীর একটি হাসপাতাল থেকে নুরুল ইসলাম সুজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। 

আর ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শাহজাহান ওমরকে। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।