Published : 06 Aug 2026, 06:31 PM
তিন দশক আগে ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে আকতার হোসেনকে ধরে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার মামলায় চার আসামিই খালাস পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বিচারক বলেছেন, “আসামিদের কারো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেই। তাদের কাছ থেকে মামলার কোনো আলামত উদ্ধার হয়নি। সার্বিক আলোচনা সাপেক্ষে এটা প্রতীয়মান হয়, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি।”
আদালতের বেঞ্চ সহকারী সাইদুর রহমান জানান, খালাস পাওয়া চারজন হলেন—জাকির হোসেন ওরফে মোতাবেক ওরফে নাসির, আশরাফ আলী, মালু ও রফিক।
তাদের মধ্যে আশরাফ ও মালু রায় ঘোষণার সময় আদালতে হাজির হন। অপর দুই আসামি পলাতক ছিলেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, পূর্বশত্রুতার জেরে ১৯৯৬ সালের ৫ মে রাত ৮টার দিকে আসামিরা আকতারকে ডেকে নিয়ে কামরাঙ্গীরচরের ঝাউচরের ইটভাটা এলাকায় নিয়ে রক্তাক্ত করে। রফিক হাত-পা বাঁধে এবং জাকির চাকু দিয়ে কোপ মারে। আশপাশের লোকজন ঘটনা টের পেলে তারা পালিয়ে যায়।
আকতারকে উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। পরে তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে স্থানানন্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ মে মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় তার বড় ভাই বেবি ট্যাক্সি চালক বাবুল মিয়া ১৪ মে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। লালবাগ থানার তৎকালীন এসআই জাকির উল্লাহ ১৯৯৯ সালের ২৪ জুন চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ২০০১ সালের ১৯ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
মামলার বিচারকালে আদালত ২১ সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি, মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বৃহস্পতিবার রায় ঘোসণা করা হলো।