Published : 17 Jul 2025, 12:56 AM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচি ঘিরে রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়া গোপালগঞ্জে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ কিংবা বিঘ্নিত হয়নি বলে দাবি করেছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ''যেকোনো পরিস্থিতিতেই ইন্টারনেট শাটডাউন না করার ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট।
“সরকার দেশের যে কোনো স্থানে মোবাইল এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বদ্ধপরিকর।''
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “গোপালগঞ্জসহ দেশের কোনো এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ বা বিঘ্নিত করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কোনো নির্দেশনা জারি করেনি। বর্তমান সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের আলোকে তার প্রশ্ন ওঠাই অবান্তর।”
বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়,"দুরভিসন্ধিমূলক উদ্দেশ্য নিয়ে স্বৈরাচার এবং তাদের দোসরা এ ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ''
সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনজীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘মিস-ইনফরমেশন’ ও ‘ডিস-ইনফরমেশন’ ছড়ানোর আগে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গোপালগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত চারজন নিহত হওয়ার খবর এসেছে।
এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে মঙ্গলবার থেকেই গোপালগঞ্জ শহরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়।
বুধবার সকালে এনসিপি নেতারা গাড়িবহর নিয়ে শহরে ঢোকার আগেই পুলিশের গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে ইউএনওর গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।
এসবের মধ্যে বেলা দেড়টার দিকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল নিয়ে এসে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে হামলা চালায়।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে নেতারা পুলিশি নিরাপত্তায় টেকেহাট হয়ে মাদারীপুর যাওয়ার পথে দুপুর পৌনে ৩টার দিকে শহরের লঞ্চ ঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের হামলা হয়।
এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের সংঘর্ষে গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ পরিস্থিতিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। পরে তারা সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া যানে করে পুলিশ সুপার কার্যালয় ছাড়েন।
দুপুরে জেলা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। তাতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় সন্ধ্যায় কারফিউ জারির ঘোষণা আসে।