Published : 21 Aug 2026, 07:10 PM
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মীম আক্তার নামে এক গৃহকর্মীর লাশ ফেলে পালানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস এ আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া তিনজন হলেন- গৃহকর্তা ফয়সাল আহমেদ (৩৫), তার স্ত্রী গৃহকর্ত্রী রাহেমা খাতুন রেশমা (২৯) ও শ্বশুর এ বি এম আব্দুর রাজ্জাক (৪৭)।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মাহফুজা আক্তার আসামিদের আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি নিয়ে বিচারক আদেশ দেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনার পর আসামিরা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের দীর্ঘদিনের বাসস্থান ছেড়ে ডেমরা এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ডেমরার বামৈল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়, ১৫ বছরের মীম বছরখানেক ধরে ফয়সালের বাসায় কাজ করছিলেন। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতে। নির্যাতনের কথা পরিবারকে জানালে তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবার।
এর মধ্যে গত ১২ অগাস্ট ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে মীমের লাশ ফেলে পালিয়ে যায় কে বা কারা। পরে সিসিটিভি ভিডিও ও প্রযুক্তির সহায়তায় মীমের পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ।
মামলায় আরও বলা হয়, ১৩ অগাস্ট সকালে ফয়সাল ফোন করে মীমের পরিবারকে ফোন করে বলেন, মীম বাসা থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে অন্য এক ছেলের সঙ্গে পালিয়ে গেছে। ১৭ অগাস্ট মীমের পরিবারের সদস্যরা ফয়সালের বাসায় গেলে তাদের ‘তাড়িয়ে দেওয়া হয়’।
এরপর ২০ অগাস্ট খবর পেয়ে মীমের পরিবারের লোকজন শাহবাগ থানায় যান। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে লাশ শনাক্ত করেন।
মীম কুমিল্লার বাসুদেব বাজার এলাকার ফজলু মিয়ার মেয়ে। মীমের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা বৃহস্পতিবার শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন।