Published : 07 Dec 2025, 08:55 PM
চলতি বছরের ক্যাম্পেইনে দেশের প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টাইফয়েডের টিকা দেওয়া তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সকে উদ্ধৃত করে রোববার সংস্থাটির এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন-টিসিভি ক্যাম্পেইন-২০২৫’ এ দেশের ৯৭ শতাংশের বেশি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
রানা ফ্লাওয়ার্সের ভাষায়, “এই অসামান্য অর্জন প্রমাণ করেছে যে, শিশুদের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু থেকে সুরক্ষা দিতে এবং সন্তান গুরুতর অসুস্থ হলে পরিবারগুলো যে অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপের মধ্যে পড়ে, তা থেকে সুরক্ষা দিতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
“এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন টাইফয়েড প্রতিরোধে বিশ্বে নেতৃস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে এসেছে। জীবনরক্ষাকারী এই ক্যাম্পেইন চালু করা বিশ্বের অষ্টম দেশ এখন বাংলাদেশ।”
ইউনিসেফের সহযোগিতায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-বিবিএসের করা সর্বশেষ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে-এমআইসিএসের তথ্য তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে মাত্র ৩৯ দশমিক ৩ শতাংশ মানুষের নিরাপদ পানির উৎস রয়েছে।
“আরও উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, পানির সব ধরনের উৎসের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতি ১০টির মধ্যে আটটি পরিবারে ব্যবহৃত পানির নমুনায় ই. কোলাই ব্যাকটেরিয়া দূষণ রয়েছে।”
বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, “এসব সংখ্যা এটাই বোঝায় যে, লাখ লাখ শিশুর জন্য টাইফয়েডের মতো অসুখে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তারা প্রতিদিন এই ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে এবং সাধারণ এক গ্লাস পানিই তাদের জন্য ভয়ানক বিপদ নিয়ে আসতে পারে।
“এ কারণে ইউনিসেফ এ ক্যাম্পেইন শুরু করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে জরুরিভাবে সহায়তা করে। প্রতিটি পরিবারের জন্য পরিষ্কার, নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার আগ পর্যন্ত শিশুদের গুরুতর অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা প্রদান, তাদের ভবিষ্যতের সুরক্ষা এবং মা-বাবাকে দুশ্চিন্তামুক্ত রাখার জন্য আমরা সবচেয়ে শক্তিশালী যেসব সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা দিতে পারি, তার মধ্যে টিসিভি টিকা অন্যতম।”
তিনি এ কর্মসূচিতে অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ায় দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স-গ্যাভির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং ক্যাম্পেইন সফল করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-ডব্লিউএইচও ও অন্যান্য অংশীজনদের স্মরণ করেন।
সংবাদমাধ্যমগুলোকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি।