Published : 31 Jul 2026, 12:52 AM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিবাচক অভিমুখে রয়েছে বলে মন্তব্য করে তার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা বলেন তিনি।
সান্ধ্যকালীন বৈঠক ও নৈশভোজের পর রাত পৌনে ৯টায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এসে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান এবং এটাকে আরও কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সে ব্যাপারে আমরা ইতিবাচক আলোচনা করেছি।”
এরপর গত সপ্তাহে ম্যানিলায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং সার্জিও গরের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রসঙ্গ টেনে খলিলুর রহমান বলেন, “আমাদের সম্পর্ক এখন একটা অত্যন্ত ইতিবাচক অভিমুখে আছে এবং আগামী দিনগুলোতে আমরা এ যাবৎ অর্জিত সাফল্যকে ভিত্তি ধরে নির্মাণ করব।”
তিন দিনের সফরে বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় এসেছেন ট্রাম্পের বিশেষ দূত গর; ভারতের মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি এই পদে আছেন তিনি।
এরপর সন্ধ্যা ৬টায় পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয় সার্জিও গরের। ঘন্টাখানেক এই বৈঠকের পাশাপাশি একান্ত আলাপও সেরেছেন তারা।
সফরের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাবেন সার্জিও গর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার সৌজন্য সাক্ষাৎ হবে শনিবার সকালে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ‘অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি’ হওয়ার কথা বলেছেন সার্জিও গরও। এর আগে ফলপ্রসু আলোচনা প্রতীক্ষায় থাকার কথা বলেছিলেন তিনি।
বৈঠক থেকে বেরিয়ে মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, “আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করতে পারা এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করাটা ছিল দারুণ। অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি।”
মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ওই বৈঠকে সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল বলেন, “আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিভিন্ন দিক আলোচনা করেছি। তার মধ্যে বাণিজ্য, ইনভেস্টমেন্ট, এনার্জি, অভিবাসন— সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
“কিন্তু স্বল্প পরিসরে আপনি তো ডিটেইল আলোচনা করতে পারেন না। আমরা সার্বিক অগ্রগতির পথ নিয়ে আলোচনা করেছি। তো আমরা, আগেই বললাম, আমাদের সম্পর্কের অভিমুখ অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আগামীতে আমরা এটার ওপর নির্মাণ করব।“
নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাজের বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সম্পর্ক… প্রথম দিন থেকেই আমরা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছি। সুতরাং, শুধু এটা একটা বৈঠকে সীমাবদ্ধ নয়, আমরা সব স্তরেই তাদের সঙ্গে সম্পর্কটা রাখছি এবং সম্পর্কটা এগিয়েই যাচ্ছে।”
আগের সরকারগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সরকারের সম্পর্কের গুণগত পার্থক্য কী, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আগের সরকার বলতে যদি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বোঝান, তাহলে পরে সে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা আছে।”
চলমান গ্যাস সংকট মোকাবেরায় সহায়তা চাওয়া হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা বিশ্বের নানা দেশের সঙ্গে সহযোগিতা চাইছি, সবার কাছেই চাইছি। সবার সঙ্গেই কথা বলছি।”
রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দিক থেকে আমরা যে সাহায্য পাই, তার অর্ধেকের বেশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে। মিয়ানমারের ওপর চাপ ইত্যাদি বিষয়ে আমরা আলোচনা করিনি।”
চীনা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যে উদ্বেগ, সেই উদ্বেগের কথা বৈঠকে উঠেছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন ধরেন, এটা একটা প্রক্রিয়া, যেটা আমরা দেখতে পাচ্ছি—দুনিয়াতে দুই রকম সিস্টেম তৈরি হচ্ছে; দুনিয়াটা দুই রকম ব্লকে ভাগ হয়ে যাচ্ছে।
“এটা ক্রমবিকাশমান প্রযুক্তি, আমরা অনেক কিছুই জানি না। আমি শুধু এইটুকু বুঝতে পারছি যে, আগামীতে আমাদের সভ্যতার একটা ভিত্তি হবে এটা। এখনও এটা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু নেই। যেমন ধরেন, নতুন যে প্রতিষ্ঠান হয়েছে, ওয়ার্ল্ড এআই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সেটা পর্যালোচনা করছে। এখনওতো তাদের পুরো অভিমতটা আমরা জানি না।”
বহু প্রশ্নের না উত্তর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
সার্জিও গরের সঙ্গে আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে সাংবাদিকদের অন্তত আটটি প্রশ্নে কোনো আলোচনা না হওয়ার কথা বলেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্রে মার্কিন কোম্পানির অংশগ্রহণের মতো বিষয় ছিল ওই প্রশ্নগুলোর মধ্যে।
অন্তর্ভূক্তিমূলক গণতন্ত্রের যে কথা পশ্চিমা দেশগুলো বলে আসছে, সেই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ বা তাদের কার্যক্রমের বিষয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কোনো আলোচনাই হয়নি।”
আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং এই অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ ছিল কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয় নাই। সুতরাং আমি ধরে নেব, এ বিষয়ে কোনো উদ্বেগ নেই।”
যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয়ের চুক্তি জিসোমিয়া-আকসা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও ‘কোনো আলোচনা হয়নি’ বলে জবাব দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “কোনো আলোচনা হয়নি।”
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে করা প্রশ্নে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে জিজ্ঞেস করার পরামর্শ দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর নিয়ে আলোচনা, সেই প্রসঙ্গে তাদের বক্তব্য কী ছিল, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “তাদের পক্ষে কোনো কথা নেই।”
আরো পড়ুন-অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: ঢাকায় বৈঠকের পর সার্জিও গর