Published : 17 Mar 2026, 08:59 PM
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে জুলাই সনদের আলোকে জাতীয় সংসদে সংশোধন আনা দরকার বলে মনে করছেন, সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
মঙ্গলবার দুপুরে মেট্রোপলিটন চেম্বার ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট।
“তবে, নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে জুলাই সনদের আলোকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে সংসদে সংশোধন আনা দরকার।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত আপিল বিভাগের রায়, সংবিধান সংস্কার ও সংস্কার পরিষদ’ নিয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম বলেন, “ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায় অনুযায়ী সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রধান উপদেষ্টা হবেন। কিন্তু আলটিমেটলি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আমরা কীভাবে দেখবো, তা নির্ভর করবে দুটি জিনিসের ওপর।
“একটা হল-পঞ্চদশ সংশোধনীর মামলার রায়। তারা কি রায় দেন এবং পর্যবেক্ষণ দেন। দ্বিতীয়টা হল-জুলাই সনদ যে স্বাক্ষরিত হয়েছে, গণভোটে যে পাশ হয়েছে, ৪৮টা বিষয়ে ওপর। (তত্ত্বাবধায়ক সরকার চূড়ান্ত হবে) গণভোটের মাধ্যমে যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হওয়ার কথা, তার মাধ্যমে এবং পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করে।
বৃহস্পতিবার রিভিউ মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ১২ মার্চ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
এর মধ্য দিয়ে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলেও এই ব্যবস্থা কার্যকর হবে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে, যা রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কারে গৃহীত জুলাই জাতীয় সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠন হবে, ধাপ ধাপে তা বলা আছে।
গেল ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনর সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে টানাপড়েন চলছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন হয়নি, এ কথা তুলে ধরে সুজন সম্পাদক বলেন, “এটা দেখার বিষয়। আমরা অপেক্ষা করতে পারি। আশা করি রাজনীতিবিদরা অতীত থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন। অতীতের ভুলগুলো পুনরাবৃত্তি হবে না। তারা প্রজ্ঞার পরিচয় দেবেন।
“জনরায়ের মাধ্যমে যে বিষয়টা (জুলাই জাতীয় সনদ) চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা যেন বিতণ্ডা না করি, জটিলতা সৃষ্টি না করি। এটা কারো জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না।”
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে সংসদে। জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে যে পদ্ধতি বলা আছে, সেটাই চূড়ান্ত বলে তিনি নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আদালতে লড়ে যাওয়া আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া দাবি করেন, প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল ঘোষণা করে যে রায় দিয়েছিল সেটা ছিল বিকৃত। রায়টা ছিল ‘অসাংবিধানিক ও ত্রটিপূর্ণ’।
তিনি বলেন, “১৫ বছর আগে স্বৈরাচারী ব্যবস্থার শুরু হয়েছিল খায়রুল হকের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের মাধ্যমে। সেই সঙ্গে দলীয় বিচারকদের রায়ে সংকটের শুরু হয়। সুপ্রিম কোর্ট এর দায় এড়াতে পারে না। আপিল বিভাগ তার ভুল বুঝতে পেরে আগের রায়টি বাতিল করে সংশোধন করেছেন। আমরা প্রতিকার পেয়েছি।”