১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সন্ত্রাস: মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর ‘বিশেষ ব্যবস্থা’

“ঢাকা উদ্যানে একটি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাম্প ঢাকা উদ্যান ছাড়াও চাঁদ উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, নবোদয় হাউজিং এলাকা কভার করবে।”

সন্ত্রাস: মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর ‘বিশেষ ব্যবস্থা’
আইনশৃঙ্খলার অবনতির পর মোহাম্মদপুরে টহল বাড়িয়েছে সেনাবাহিনী। বসানো হয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্পও।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Oct 2024, 09:36 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:21 PM

বেপরোয়া ছিনতাই আর সন্ত্রাসে আতঙ্কে থাকা মোহাম্মদপুরে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়েছে সেনাবাহিনী। স্থায়ী সেনা ক্যাম্পের পাশাপাশি অপরাধ দমনে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে সেখানে।

শনিবার মধ্যরাতে বছিলা ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা মেজর নাজিম আহমদ সংবাদ সম্মেলনে জানান, মোহাম্মদপুর এলাকার প্রতিটি হাউজিংয়ে তাদের অস্থায়ী ক্যাম্প বসবে।

রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, তাদের শেরেবাংলা নগর এবং বছিলায় দুইটি স্থায়ী ক্যাম্প রয়েছে। এসব ক্যাম্প থেকে এলাকার ট্রাফিক জটিলতার কারণে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাওয়া বা টহল ডিউটি করা তাদের জন্য সমস্যা হচ্ছে।

“ঢাকা উদ্যানে একটি অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যাম্প ঢাকা উদ্যান ছাড়াও চাঁদ উদ্যান, চন্দ্রিমা উদ্যান, নবোদয় হাউজিং এলাকা কভার করবে।”

পরে প্রয়োজন হলে এই ক্যাম্প সরিয়ে নবোদয় হাউজিং, মোহাম্মদীয়া হাউজিং এলাকায়ও অস্থায়ীভাবে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।  

যেকোনো অপরাধের ভিডিও ক্লিপ বা তথ্য প্রমাণ দেওয়ার জন্য ক্যাম্পে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন এই সেনা কর্মকর্তা।

জেনিভা ক্যাম্প নিয়েও কাজ করছে সেনাবাহিনী। তারাও অপরাধীদের ধরতে তৎপরতা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় রোববারও যৌথ বাহিনী এই ক্যাম্প থেকে ছয়জনকেও গ্রেপ্তার করেছেন, জানান মেজর নাজিম আহমেদ। 

আগের রাতে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবির যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হন আরও ৪৫ জন।

গত রাতে মোহাম্মদপুরের জেনিভা ক্যাম্প থেকে ছয় জনকে আটক করে সেনাবাহিনী।

গত রাতে মোহাম্মদপুরের জেনিভা ক্যাম্প থেকে ছয় জনকে আটক করে সেনাবাহিনী।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়ায় ডাকাতি, চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে।

সবচেয়ে খারাপ অবস্থা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে। বেশ কিছু ছিনতাই, ধারালো অস্ত্রের আঘাত, মারামারি এবং ডাকাতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সেখানে।

এলাকায় প্রায় প্রতিদিন একাধিক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেলেও অনেক কিছুই থানা পর্যন্ত গড়ায় না।

মোহাম্মদপুরের বসিলায় একটি মিনি সুপারশপে অস্ত্রধারীদের ঢুকে ডাকাতি, মোহাম্মদপুর হাউজিং লিমিটেডে ‘নেসলে’ কোম্পানির একটি গাড়ি থামিয়ে ছুরি-চাপাতির মুখে নগদ ১১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ছিনতাই, সেনাবাহিনীর পোশাক পরে ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি, শিয়া মসজিদ এলাকায় বাজার কমিটির দ্বন্দ্বে আপন দুই ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ হওয়া, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন গ্রিন ভিউ হাউজিংয়ের সড়কে যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাগুলো সামনে এলেও আরও অনেক ঘটনা রয়ে গেছে আড়ালে।

পাঠাও ডেলিভারি ম্যান সোহেল তানভীর গত ২৩ অক্টোবর রাতে ৮টার দিকে চানমিয়া হাউজিংয়ে ছিনতাইয়ের কবলে পড়েন। চাপাতির ভয় দেখিয়ে কয়েকজন তার কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নিয়ে যায়।

সোহেল তানভীর পুলিশকে বিষয়টি জানালেও মামলা করেননি। বাহিনীটি বলছে, এমন অনেকেই মামলা করছেন না।  

এই অবস্থার মধ্যে গত বৃহস্পতিবার মোহাম্মদপুরবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকজন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে দেখা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। দুদিন পর অর্ধশত বাসিন্দা থানায় গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য ৭২ ঘটনা সময় বেঁধে দেয়।