Published : 30 Aug 2026, 08:53 PM
রাজধানীর সবুজবাগে ছুরাইয়া আক্তার ফালানী নামে এক তরুণীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের মামলায় আরেক আসামি ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকীর ভাষ্য, চার দিনের রিমান্ড চলাকালে ফালানীর বান্ধবি ও ‘মূল খুনি’ নুসরাত জাহান সাহিদার সহযোগী মো. শাওন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শাওনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এর প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে তথ্য দেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই পীযূষ দাস।
সবুজবাগ এলাকা থেকে গত বুধবার রাতে সাহিদার স্বামী মনজুরুল ইসলাম রাব্বী ও শাওনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।
এরআগে বুধবার সকালে সাহিদা ও তার ‘পাতানো ভাই’ কবির হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে উঠে আসে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে এ খুনের ঘটনা।
ওইদিন ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নূরে আলম সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকে এ খুনের ঘটনা। সাহিদার স্বামী রাব্বি সঙ্গে ফালানী অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি সাহিদা জেনে যায়। ঘটনার দিন রাব্বির সঙ্গে ফালানিকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় তাদের দেখে ফেলে সাহিদা। সঙ্গে সঙ্গে সাহিদা ছুরি দিয়ে আঘাত করে খুন করে ফালনীকে।
“পরে লাশ গুমের জন্য সাহিদার সঙ্গী শাওন নামে আরেকজন নিহতের মাথা বিচ্ছিন্ন করে।”
এ মামলার অন্য আসামি ফারুক ওরফে জামাই ফারুক, সুজন, মামুন, রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি ও রকি রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছে।
গত ৬ অগাস্ট সবুজবাগের মাদারটেক বাগানবাড়ির গরুর খামার লাগোয়া সেতুর নিচ থেকে একটি খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ছবি দেখে দেহাংশটি ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীর বলে শনাক্ত করেন তার মা-বাবা। ১৯ বছর বয়সি ফালানী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে।
এ ঘটনায় ওইদিনই অজ্ঞাতদের আসামি করে সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।