Published : 19 Apr 2026, 12:13 AM
জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ডিজেল কিনতে এসেছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার রোহিতপুরের বাসিন্দা আলাউদ্দিন।
নিজেকে কৃষক পরিচয় দেওয়া এই ব্যক্তি পাঁচ লিটারের খালি বোতল নিয়ে পাম্পের এখানে-সেখানে দৌড়ঝাঁপ করলেন ঠিকই, তেল পেলেন না।
শনিবার সকালে কোনাখোলার ‘আলহাজ নূর ফিলিং স্টেশনে’ তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন অনেক কৃষক।
পাম্পের দুপাশে মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপ ও কারের দীর্ঘ লাইন। তাদের সঙ্গে খালি বোতল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন আলাউদ্দিনের মতো অনেক ক্রেতা।
নূর ফিলিং স্টেশন খোলা থাকে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। কিন্তু এদিন তেল সরবরাহ শুরু হতে সকাল গড়িয়ে যায়।
পাম্পের কর্মকর্তা শামীম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ডিপো থেকে তেল আসতে দেরি হয়েছে। তাই সরবরাহেও দেরি।”
সকাল ১১টার পর পর তেল সরবরাহ শুরু হলে গাড়ির সারিও দীর্ঘ হতে থাকে। দুপুর ২টা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন তেল নিতে পারেন চালকরা। ভিড় বাড়লে একপর্যায়ে তেলের জন্য হাতাহাতি শুরু করেন চালকরা। তখন তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরবরাহ বন্ধের আগে দুপুর ১টা ৩৭ মিনিট থেকে ১টা ৪৯ মিনিট পযর্ন্ত গুণে দেখা যায়, ৪৫৯টি বাইক তখনও তেলের অপেক্ষায় রয়েছে।
আবার তেল বিক্রি শুরু হলে ছোটাছুটি শুরু করে কৃষক আলাউদ্দিন। একবার যান ক্যাশ কাউন্টারে, আরেকবার তেল সরবরাহের পাইপের কাছে। কিন্তু তেল পাচ্ছিলেন না।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “শুধু দুই লিটার তেল; কিন্তু পাচ্ছি না। তেল না পেলে আমার ধান নষ্ট হবে।”
কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের এই ব্যক্তি জানান, তিনি ৫২ শতাংশ জমিতে ধান আবাদ করেছেন। সেই জমির ধানেই তার সারাবছর চলে।
তিনি বলেন, “আমাগো চাল কেনার ক্ষমতা থাকে না। চাষের ধানে ভাত খাই। রুহিতপুর বাজারে অনেক দোকানে চেষ্টা করেছি। তিন দিন ধরে তেল পাই না। অনেক দূর থেকে এই পাম্পে এসেছি দুই লিটার তেলের জন্য; পাই নাই। আমার ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
পাম্প থেকে তেল কেন দিচ্ছে না, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখানকার কর্চারীরা বলছে, সরকারি কর্মকর্তার সিগনেচার লাগব, কাগজ-স্লিপ লাগব।”
তেলের জন্য দীর্ঘসময় লাইনে ছিলেন ট্রাক্টর চালক জহির ইসলাম।
সকাল সাড়ে ৯টায় পাম্পে আসা এই ব্যক্তি বলেন, “এখন ২টা বাজে। তেল থাকলে পাব ১০ লিটার। যদি ক্ষেতে নামি, এই ১০ লিটার দুই পাকি জমি চাষ দিতেই শেষ।
“কৃষকরা ঘিরে ধরে; তারা জমি আবাদ করতে পারছে না। তেলের লাইনে সারা দিন চলে যাচ্ছে। এই ভোগান্তির মধ্যেই আছি।”
তেলের অভাবে উপার্জন কমে যাওয়ার তথ্য দিয়ে জহির বলেন, “আগে তেল পাইতাম, সারা দিনে ১০-১২ টাকা আসত। এখন দিনে ওঠে হাজার দুই।”
বিকাল ৩টার দিকে তেল ভরে পাম্প থেকে বের হচ্ছিলেন আরেক ট্রাক্টর চালক আবুল কালাম আজাদ। তার প্রতিক্রিয়াও জহিরের মতো।
কৃষকরা বলেন, তাদের বেশির ভাগ যন্ত্রই তেলে চলে। এসব যন্ত্রের জন্য এতদিন তারা বিভিন্ন পাত্রে করে তেল কিনে নিয়ে যেতেন। কিন্তু তেলের সংকট তৈরি হওয়ার পর যানবাহনের বাইরে অন্য কোনো পাত্রে তেল বিক্রি বন্ধ রাখছেন পাম্প মালিকরা।
নূর ফিলিং স্টেশনের কর্মী শামীম বলেন, “ঢোপে তেল দিতে গেলে মোটরসাইকেল চালকরা বাধা দেন। এতে বিতণ্ডা হয়। কিছুক্ষণ আগে ঝামেলার কারণে তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।
“তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার স্লিপ থাকলে তেল দিতে ঝামেলা হয় না।“