১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিও চিঠি উপেক্ষার অভিযোগে জামায়াত এমপির দেওয়া বিশেষ অধিকার নোটিস নাকচ

মুজিবুর রহমানের তোলা অভিযোগ সংসদীয় বিশেষ অধিকার ক্ষুন্নের এমন কোনো বিষয় নয়, যাতে সংসদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মত দেন ডেপুটি স্পিকার।

ডিও চিঠি উপেক্ষার অভিযোগে জামায়াত এমপির দেওয়া বিশেষ অধিকার নোটিস নাকচ
ফাইল ছবি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Sep 2026, 08:48 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:55 AM

নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন কাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি নিয়ে দেওয়া শতাধিক সুপারিশপত্র বা ডিও উপেক্ষার অভিযোগে বিশেষ অধিকার ক্ষুন্নের দুটি নোটিস সংসদে দিয়েছিলেন রাজশাহী-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তবে নোটিস দুটি গ্রহণ করেননি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

সংসদে রোববার কার্যপ্রণালী বিধির ১৬৪ বিধিতে পাওয়া বিশেষ অধিকার প্রশ্নের নোটিস নিষ্পত্তির সময় এ সিদ্ধান্ত দেন ডেপুটি স্পিকার। তার ভাষ্য, মুজিবুর রহমানের তোলা অভিযোগ সংসদীয় বিশেষ অধিকার ক্ষুন্নের এমন কোনো বিষয় নয়, যাতে সংসদের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

মুজিবুর রহমান তার প্রথম নোটিসে অভিযোগ করেন, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের পর রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য দেওয়া তার প্রায় শতাধিক ডিও চিঠি বাদ দেওয়া হয়েছে। এসব কাজ সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী আসনের একজন সংসদ সদস্যের ডিও চিঠির মাধ্যমে করানো হয়েছে। 

মুজিবুর রহমানের ভাষ্য, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়েছে, ওই নারী সংসদ সদস্যের ডিও চিঠি ছাড়া নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা যাবে না।

এ পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য হিসেবে তার অধিকার রক্ষায় স্পিকার ও প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান জানতে চান মুজিবুর রহমান।

দ্বিতীয় নোটিসে মুজিবুর রহমান নির্বাচনী এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগের বিষয়টি তোলেন। তিনি বলেন, “প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্যরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটির সভাপতি নিয়োগে ডিও চিঠি দেন। সে অনুযায়ী গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি প্রায় শতাধিক চিঠি জমা দিয়েছেন। কিন্তু তার সুপারিশে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে সভাপতি নিয়োগ হয়নি।” 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের ‘সন্ত্রাসের ভয়ে’ এ বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না বলেও নোটিসে অভিযোগ করেন মুজিবুর রহমান। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে দাবি করে স্পিকারের হস্তক্ষেপ চান তিনি।

তবে দুটি নোটিসের বিষয় কাছাকাছি হওয়ায় সেগুলো একসঙ্গে নিষ্পত্তি করেন ডেপুটি স্পিকার। 

কায়সার কামাল বলেন, “সংসদীয় এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে নির্বাচিত আসন ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য, দুজনই ভূমিকা রাখতে পারেন।”

দুজনেরই যাতে ভূমিকা রাখার সুযোগ থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট থাকতে বলেন তিনি।

একই এলাকায় একজন সংসদ সদস্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে অন্যজনকে গুরুত্বহীন না করার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি রাখতে বলেন ডেপুটি স্পিকার।

তবে বিষয়টি সংসদের হস্তক্ষেপের উপযোগী নয় বলে তিনি মুজিবুর রহমানের দুটি নোটিসই নাকচ করে দেন।