Published : 06 Jul 2026, 12:28 AM
টিকার সংকট ও সরবরাহে গাফিলতির কারণে এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
রোববার কার ওই আবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসসহ ছয়জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
অন্যরা হলেন- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি), সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঢাকার ডিসি।
গত ২৬ মে শ্যামলীর বেবি কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত হয়ে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের ক্লার্ক মো. শাকিলের সাত মাসের শিশু সাফওয়ান ইসলাম জাহিনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় হাম নিয়ে অবহেলার অভিযোগ তুলে শাকিলের পক্ষে রিট আবেদন করেন আইনজীবী মো. জুয়েল আজাদ।
সেখানে অবহেলার কারণ অনুসন্ধানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার মাধ্যমে জরুরি ভিত্তিতে ৫ লাখ টাকা ও চূড়ান্তভাবে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে।
আইনজীবী জুয়েল আজাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সঠিকভাবে যদি চিকিৎসা বা সেবা দেওয়া যেত, তাহলে যিনি হাই কোর্টে বিচারের জন্য এসেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন তার সন্তান সংক্রমিত হত না। সুপ্রিম কোর্টের একজন সদস্য তার ছেলেকে হারাতেন না। উনি সন্তানহারা হয়ে বিচারের আশায় আমাদের কাছে এসেছেন।”
রিটে বিবাদীদের বিষয়ে এ আইনজীবী বলেন, “সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের পাশাপাশি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকেও বিবাদী করা হয়েছে। তিনি যেহেতু ওই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাই তিনিও এর জন্য দায়ী।”
রিটে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে টিকা সংগ্রহের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। এই সময়ে মজুদ ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহে যে অবহেলা হয়েছে, তা মূল্যায়নের দাবি তুলে ধরা হয়েছে।
আইনজীবী জুয়েল আজাদ বলেন, “রিটে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে অবহেলা বা গাফিলতি কোথায় হয়েছে, তা খুঁজে বের করে আদালতকে জানানোর জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের আবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে রুল, প্রয়োজনীয় নির্দেশনা এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও করা হয়েছে।
এছাড়া জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে টিকা সংগ্রহ ও মজুদ সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র আদালতে দাখিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে এই রিটে।
কবে নাগাদ শুনানি হতে পারে এমন প্রশ্নে জুয়েল আইনজীবী বলেন, শিগগিরই বিচারপতি এস এম ইফতেখার উদ্দিন মাহমুদের কোর্টে শুনানি হতে পারে।