Published : 25 Mar 2026, 04:23 PM
পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংলি বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে এক বৈঠকে এই আশ্বাস দেন বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
সেখানে বলা হয়, "রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের সংস্কার এজেন্ডা বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে মন্ত্রীর কাছে জানতে চান এবং সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
“তিনি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুলিশ সংস্কারে সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে কারিগরি ও কৌশলগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।"
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে ‘অতিমাত্রায়’ বল প্রয়োগ করতে পুলিশকে ‘ব্যবহার করা হয়েছে’।
তিনি বলেন, "দেশের সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ আয়োজনসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। তবে তা সতর্কতার সাথে করতে হবে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়।"
মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বর্তমান সরকার ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত সংসদসহ রাজনীতির মাঠে শান্তিপূর্ণ বিতর্ক ও আলোচনা ‘গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় গ্রহণযোগ্য’ বলে মত দেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিষয়, সন্ত্রাসবাদ দমন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা, পুলিশসহ বিভিন্ন খাতের সংস্কার, আর্থিক সংস্কার, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ, স্ক্যামসহ ডিজিটাল প্রতারণা প্রতিরোধ, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা, পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রদূতের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে চরমপন্থা বা উগ্রবাদ অল্প মাত্রায় থাকতে পারে, তবে তা কখনোই সন্ত্রাসবাদের রূপ নেয়নি। বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ দমনে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম- সিটিটিসি ইউনিট অত্যন্ত দক্ষতার সাথে কাজ করছে।"
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে সংস্কার ‘অপরিহার্য’ মন্তব্য করে মন্ত্রী পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং সামগ্রিক সংস্কারে সহযোগিতা জোরদার করতে পারে সুইজারল্যান্ড।
গত ১৬-১৭ মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’ এ অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, "স্ক্যাম বা ডিজিটাল প্রতারণা বর্তমানে বিশ্বের মোট প্রতারণার প্রায় ৪০ শতাংশ। এটি একটি বৈশ্বিক সংকট এবং আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা ছাড়া এটি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয়।"
রাষ্ট্রদূত এসময় ডিজিটাল প্রতারণাকে একটি ‘উদ্বেগের বিষয়’ হিসেবে তুলে ধরেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ শাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের কাউন্সেলর আলবার্তো জিওভানেত্তি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
পরে 'ইউনাইটেড নেশনস অফিস অন ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম' এর দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের পরিচালক ক্রিস্টিয়ান হোলজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।