দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চলে কোরিয়াকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ
শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষণে বড় পরিসরে যুক্ত হওয়ার কথা দক্ষিণ কোরিয়াকে বলেছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
চট্টগ্রামের মিরসরাইতে নির্মাণাধীন প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চলে দক্ষিণ কোরিয়াকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
শুক্রবার সিউলে কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ভাইস চেয়ারম্যান লি দু-হি এর সঙ্গে বৈঠকে এ আমন্ত্রণ জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
বৈঠকে আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশে একটি প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া চলার তথ্য কোরিয়াকে দেন প্রতিমন্ত্রী। প্রযুক্তির উন্নয়ন, শিল্প সহযোগিতা এবং পারস্পরিক অর্থনৈতিক লাভের মনোভাব নিয়ে সেখানে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে কোরিয়াকে আমন্ত্রণ জানান তিনি।”
বাংলাদেশ সরকার প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উদ্যোগ এবং বিদেশি অংশীদারদের সম্পৃক্ত করার করার ওপর জোর দিয়ে মিরসরাইতে প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল করার উদ্যোগ নিয়েছে। শিল্পাঞ্চল করার জন্য গত জানুয়ারিতে ৮৫০ একর জমিও নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।
ওই শিল্পাঞ্চলে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্সের প্রশিক্ষণে বড় পরিসরে যুক্ত হওয়ার কথাও দক্ষিণ কোরিয়াকে বলেছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বৈঠকে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
“বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কোরিয়ার সহযোগিতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখা এবং সুযোগ বাড়ানোর অনুরোধও করেন তিনি।”
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর দেওয়া বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কোর্সে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের পাঠাতে কোরিয়া সরকারকে উৎসাহিত করেন প্রতিমন্ত্রী।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহকে সাধুবাদ জানিয়েছে কোরিয়া এবং প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষাসহ পরস্পরের সম্মতিতে নির্ধারিত খাতগুলোতে বিস্তৃত সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।
কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ
শুক্রবার সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রথম ভাইস মিনিস্টার পার্ক ইউন-জুর সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন।
এসময় কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিউংকে বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পৌঁছে দেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গভীর করতে কোরীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশের প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী। বৈশ্বিক অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে নেতা হিসাবে উঠে আসার ক্ষেত্রে কোরিয়ার অসাধারণ রূপান্তরকে সাধুবাদ জানান তিনি।
“দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত ফরেন অফিস কনসাল্টেশন এবং উচ্চ পর্যায়ের সফর বিনিময় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।”
বাংলাদেশ-কোরিয়া সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সেপা) চূড়ান্ত হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে এটি দ্রুত স্বাক্ষরের বিষয়ে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। কোরীয় প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরে তা সই হওয়ার আশা করছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সহায়তা অব্যাহত রাখায় কোরিয়াকে ধন্যবাদ দিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে তাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছে।
