Published : 10 Sep 2026, 08:25 PM
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি থেকে নিজের নাম পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে যাওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন রংপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী।
পরে সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান।
এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রসিকতা করে বলেন, “পাহাড়ে গেলে তো স্বাস্থ্য ভালো হয়। সেজন্যই পাহাড়ে দিয়ে দিয়েছে।”
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে কয়েকটি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে এ আলোচনা হয়।
এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
প্রস্তাবে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়াকে সভাপতি করা হয়। সদস্যদের মধ্যে রংপুর-১ আসনের মো. রায়হান সিরাজীর নামও ছিল।
কমিটি পুনর্গঠনের পর রায়হান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বলেন, তিনি আগে কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটিতে তার নাম ছিল না।
তিনি বলেন, “মাননীয় চিফ হুইপ কমিটিগুলো ঘোষণা করার সময় যেটি মূলত পুনর্গঠনের কথা বলেছেন, উনি ওখানে একটি কথা বারবার প্রয়োগ করেছেন, কোনো সদস্যের পরিবর্তন হয়নি।”
এরপর রায়হান বলেন, “পার্বত্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয় বিষয়ক এই কমিটিতে আমার নাম ছিল না। কৃষি মন্ত্রণালয় বিষয়ক কমিটিতে আমার নাম ছিল।”
তিনি প্রশ্ন করেন, “যদি কোনো সদস্যের নাম পরিবর্তন না হয়, তাহলে আমি তিস্তা পাড় থেকে কীভাবে পাহাড়ে গেলাম?”
এটি ছাপার ভুল কিনা, তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান তিনি।
জবাবে চিফ হুইপ বলেন, “এটা প্রিন্টিং মিস্টেক কিনা, আমি দেখে, যদি দরকার হয়, পরবর্তী সময়ে জানাব। যদি সংশোধন নিয়ে আসতে হয়, সংশোধন নিয়ে আসব।”
মানুষের ভুল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।
এরপর সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্য বণ্টন নিয়ে আপত্তি তোলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, শুধু পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটিতেই নয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতেও সদস্য পরিবর্তন হয়েছে।
তার অভিযোগ, বিরোধী দল যে তালিকা দিয়েছিল, সে অনুযায়ী সব কমিটিতে সদস্য রাখা হয়নি।
এরপর রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কমিটিতে বিরোধী দলের দুজন করে সদস্য রাখা হয়েছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটিতে রাখা হয়েছে চারজন।
তিনি বলেন, “মেইন কমিটিগুলিতে আমাদেরকে দুইজন রাখা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে চারজন রাখা হয়েছে।”
রফিকুল বলেন, “প্রত্যেকটা গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে আমাদেরকে দুইজন দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা মনে করি, এক্ষেত্রে বৈষম্য করা হয়েছে বিরোধী দলের সঙ্গে।”
রংপুরের রায়হানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক কমিটিতে দেওয়ার প্রসঙ্গও আবার তোলেন তিনি।
এরপর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “পাহাড়ে গেলে তো স্বাস্থ্য ভালো হয়। সেজন্যই পাহাড়ে দিয়ে দিয়েছে।”
পরে স্পিকার বলেন, কমিটিতে সদস্য বণ্টন নিয়ে যে আপত্তি উঠেছে, তা আলোচনা করে সমাধান করা সম্ভব।