Published : 08 Jul 2025, 12:40 PM
সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে ঢাকাসহ চার বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় যে লঘুচাপটি অবস্থান করছে সেটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা। ফলে বুধবার বিকেলের পর থেকে বৃষ্টি কমে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার অধিদপ্তরের এক বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয়তার কারণে এদিন সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
অতি ভারি বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে সতর্কবার্তায়।
ভারি বৃষ্টির কারণে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
সাধারণত ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।
সাগরে লঘুচাপ, ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত
এদিকে, সোমবারের নিয়মিত বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে।
এর ফলে, মোংলা, কক্সবাজার, পায়রা, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টিপাত আজকে এবং কালকে (বুধবার) থাকবে। কাল বিকেলের দিকে কমে আসবে।
“এরপর ১০, ১১ তারিখ কিছুটা কম থাকবে। তারপর আবার ১৩, ১৪ তারিখ বৃষ্টিপাত বাড়বে।”
অধিদপ্তর বলছে, মৌসুমী বাবুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।
মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সক্রিয় ও অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এর প্রভাবে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
সারাদেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
গেল ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে দেশের সর্বোচ্চ ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত নথিবদ্ধ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এছাড়া, হাতিয়ায় ১৪৬, পটুয়াখালীতে ১৪২, ফেনীতে ১৩৪, খেপুপাড়ায় ১২১ মিলিমিটারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কম-বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল নীলফামারীর ডিমলায়; ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল টাঙ্গাইলে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।