১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তিতুমীর আন্দোলনে মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে, আমারও: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

“সচিব মহোদয় যেটা বলেছেন সেটা প্রচার করেন- জনগণই তাদের উঠিয়ে দেবে,” বলেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Feb 2025, 08:12 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:32 PM

সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ভোগান্তি হচ্ছে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এটা সকল মানুষকে বোঝাতে হবে।

সোমবার বিকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আপনারাই বলেন, আমাদের কী করা উচিত। মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে, আমারও নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে। 

“এটা এখন সবারই দায়িত্ব। সচিব মহোদয় যেটা বলেছেন সেটা প্রচার করেন- জনগণই তাদের উঠিয়ে দেবে।”

তিতুমীর আন্দোলন নিয়ে তার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেছেন, “এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় দাবির যৌক্তিকতা দেখা যাচ্ছে না।”

তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরসহ সাত দাবিতে মঙ্গলবার থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন বিকাল থেকে ‘তিতুমীর বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবিতে আমরণ অনশন’ লেখা ব্যানার টাঙিয়ে কলেজের মূল ফটকের সামনে অনশন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। আর বৃহস্পতিবার থেকে বিরতি দিয়ে চলছে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি।

আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্ম ‘তিতুমীর ঐক্যর’ সাত দফার মধ্যে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ; ‘বিশ্ববিদ্যালয়’প্রশাসন গঠন করে ২৪-২৫ সেশনের ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা এবং শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসন ব্যবস্থা কিংবা শতভাগ শিক্ষার্থীর আবাসিক খরচ বহন করা।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মনে করেন শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে আলোচনা করতে পারে। সেই আলোচনা তাদের ক্যাম্পাসের ভেতরে হতে পারে, মাঠ আছে সেখানেও করতে পারে। 

এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তোমরা রেল ব্লক করিও না, মেইন রাস্তা ব্লক করিও না। তোমরা আছো, তোমরা কলেজের সামনে দাঁড়াও। তোমাদের সমস্যার কথাগুলো বল।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কথা বলার সময় তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের দাবির প্রসঙ্গ এলে সেখানে উপস্থিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, “তিতুমীর কলেজের ব্যাপারে আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যেই একটা বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।

“পেছনে একটু যাই, যখন সাত কলেজ নিয়ে আন্দোলন হচ্ছিল তখন আমাদের উপদেষ্টা মহোদয় সাত কলেজের ছাত্র প্রতিনিধিদের নিয়ে একটা সভা করেন।

সভা করে সিদ্ধান্ত নেন যে সাতটা কলেজ নিয়ে একটা বিশ্ববিদ্যালয় করার ব্যাপারে একটা হাইপাওয়ার কমিটি করব। সে অনুযায়ী একটি কমিটি করা হয়েছে ইউজিসি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে।”

সেই কমিটি কাজ করছে জানিয়ে সচিব বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয় করার ব্যাপারে কিছু সময়ের প্রয়োজন। কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার দুই-এক দিনের মধ্যেই তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা বলল তারা আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় চায়।

“আলাদা বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার ব্যাপারে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের যে দাবি সেটার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। তিতুমীরের মত আরো অনেক কলেজ আছে, যেটা ঢাকা শহরে আছে, ঢাকার বাইরে আছে।”

শিক্ষার্থীরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেছে তুলে ধরে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সময় মানে যতক্ষণ পর্যন্ত আলাদা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়টাকে কীভাবে মোকাবেলা করা যায়, সে কারণে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে কথা বলেছি। তারা সাত কলেজের দায়িত্ব নিতে চায় না, তবে এ বছর যারা নতুন ভর্তি হবে তাদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়, যারা পরীক্ষা দিবে তাদের ভবিষ্যৎ যাতে নষ্ট না হয়- এ ব্যাপারে সরকার যেটা বলবে তারা করবে।”

তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার পাশাপাশি আলাদাভাবে দুইটি দাবি জানিয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে পিএইচডি ডিগ্রিধারী অধ্যাপক নিয়োগ এবং গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়ানো।

এ বিষয়ে শিক্ষা সচিব বলেন, “সেখানে ১৭ জন পিএইচডিধারী শিক্ষক আছেন, তারপরও আরো দিলে যদি শিক্ষার মান বাড়ে ওই কলেজে আমরা আরো দেব। গবেষণার জন্য বরাদ্দ বাড়ার দাবির ব্যাপারেও ‘অ্যাগ্রি’ করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার যে দাবি সেটার ব্যাপারে আমরা বলেছি যে কমিটি গঠন করা হয়েছে সেটা যে সাজেশন দেবে সেটার উপর পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

আন্দোলনের অংশ হিসেবে রেলপথ অবরোধ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, “সেখানে আমরা দুজন জয়েন্ট সেক্রেটারিকে পাঠিয়েছি তাদের সাথে কথা বলার জন্য।”

অপর এক প্রশ্নে তিনি বলেন, "এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় দাবির যৌক্তিকতা দেখা যাচ্ছে না।”

শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছাড়েনি জনদুর্ভোগ বাড়ছে এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করণীয় কি আছে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আপনারাই বলেন আমাদের কি করা উচিত। এরা লোকজনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। দিনের পর দিন তাদের দাবি বেড়েই চলেছে। এটার পিছনে কারা আছে সেটা আপনারা জানেন। আপনারা প্রকাশ করেন না।”

শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া যাই আছে রেলপথ ছেড়ে দিয়ে, রাস্তা ছেড়ে দিয়ে করতে অনুরোধ জানান উপদেষ্টা।

শহীদ দিবসের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সভা ছাড়াও কোর কমিটির সভা হয়েছে।