১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিক পরিচয় পেয়েও পুলিশ গুলি করে: ট্রাইব্যুনালে মোহিদ

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে।

বিডিনিউজ২৪

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2025, 02:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:13 PM

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ গুলি চালিয়েছে বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক মোহিদ হোসেন। 

সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ সিলেটের স্থানীয় দৈনিক ‘একাত্তরের কথা’র এ কর্মী সাক্ষ্য দেন।

এদিন বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মোহিদসহ ছয় সাক্ষীকে হাজির করা হয়।  

সাক্ষ্যে মোহিদ বলেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার দেশব্যপী বিএনপির গায়েবানা জানাজা কর্মসূচি ছিল। তার অংশ হিসেবে সিলেটের মধুবন পয়েন্টের কাছে কালেক্টরেট জামে মসজিদে জুমার নামাজের পর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মোহিদ সেখানে সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, “১৯ জুলাইয়ের আগে আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছে, তাদের গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং জানাজা শেষে একটি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি জিন্দাবাজারের দিকে যাওয়ার সময় পুলিশ পেছন দিক থেকে অতর্কিতে গুলি বর্ষণ করে। 

“আমি এবং আমার সহকর্মী সাংবাদিক আবু তোরাব পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। পুলিশ আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছিল। আমি হাত উঁচিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বলছিলাম, ‘দস্তগীর ভাই (এডিসি) আমরা সাংবাদিক, আমাদেরকে গুলি কইরেন না’।” 

তার পরও পুলিশ গুলি ছুড়তে থাকে দাবি করে মোহিদ বলেন, “পুলিশের গুলিতে আমার সহকর্মী দৈনিক জালালাবাদ এবং দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার ফটো সাংবাদিক আবু তোরাব গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে বসে পড়েন। তাকে আমি রিকশায় করে এবং পরবর্তীতে সিএনজিতে করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। 

“সেখানে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন চিকিৎসায় বাধা দেওয়ায় তাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে ওইদিনই সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে সে মারা যায়।” 

পুলিশের এডিসি সাদিক কাউসার দন্তগীর, কোতোয়ালী থানার এসি মিজানুর রহমান, কোতোয়ালী থানার ওসি মহিউদ্দিনসহ আরও অনেকে গুলি বর্ষণ করে বলে সাক্ষী মোহিদ বলেন। 

তিনি ওই ঘটনার একটি ভিডিও সংগ্রহ করেছেন এবং একটি ভিডিও নিজে করেছেন। দুইট ভিডিও একটি পেনড্রাইভে ট্রাইব্যুনালে জমা দেন। এর মধ্যে তার সহকর্মীর করা ভিডিওটি ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়। 

ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষোভ মিছিলের উপর পুলিশের গুলি বর্ষণ করছিল। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর রক্তাক্ত আবু তোরাব প্রথমে মাটিতে বসে পড়েন, পরে নিজেই একটি রিকশায় ওঠেন এবং মোহিদ (সাক্ষী) রিকশাটি টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। 

মোহিদ বলেন, গুলিবিদ্ধ সাংবাদিক আবু তোরাবকে প্রথমে তিনি রিকশায় করে হাসপাতালের উদ্দেশে রওয়ানা হন। পরে একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে তাকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। 

তিনি বলেন, আল জাজিরা ও বিবিসির তথ্যচিত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশকে আন্দোলনকারীদের উপর গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন। পরবর্তীতে আরও জানতে পারেন এ ঘটনার জন্য আরও দায়ী তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের প্রধান, স্বরাষ্ট্রসচিবসহ অনেকেই।

দুপুরের আগে সিলেটের আরেক সাংবাদিক হুমায়ুন কবির লিটনও একই সাক্ষ্য দেন। আরও সাক্ষ্য দেন ঢাকার মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ হাসানাৎ আল মতিন।

হাসানাৎ আল মতিন ১৯ জুলাই তাদের হাসপাতালে শামসুল ইসলাম নামের একজন গুলিবিদ্ধ রোগীকে অস্ত্রোপচার করে একটি বুলেট বের করার কথা জানান। পরে আইসিইউতে ওই গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি মারা যান বলেও তিনি জানান। 

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ ‘শেষ পর্যায়ে’ বলে জানিয়েছেন কৌঁসুলি মো. মিজানুল ইসলাম। 

তিনি দুপুরে সাংবাদিকদের বলেন, মোটামুটি কমবেশি ৪০ জনে মতো সাক্ষী রয়েছেন।