১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জাতিসংঘে ভাষণ দিচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘে তার দ্বিতীয় ভাষণ দিচ্ছেন বাংলায়।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Sep 2025, 09:29 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:56 PM

ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের নবযাত্রার এক বছর পেরিয়ে সতের কোটি মানুষের নেতা হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮০তম অধিবেশনে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ৯টা ২৫ এ মুহাম্মদ ইউনূসের এ ভাষণ শুরু হয়। বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে বিশ্ব নেতাদের সামনে তিনি দ্বিতীয়বারের মত ভাষণ দিচ্ছেন বাংলা ভাষায়।    

জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে সাধারণ আলোচনায় প্রধান উপদেষ্টা তার এ ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার কার্যক্রম, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয় তুলে ধরছেন।

এ বছর ৮০ বছর পূর্ণ করছে জাতিসংঘ। এবারের সাধারণ অধিবেশনের প্রতিপাদ্য: ‘বেটার টুগেদার: এইট্টি ইয়ারস অ্যান্ড মোর ফর পিস, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস।’

এই অধিবেশন এবং অন্যান্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে পৌঁছান প্রধান উপদেষ্টা।

এ বছর প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছয় রাজনীতিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা ঢাকা থেকে প্রতিনিধি দলের সঙ্গে যোগ দেন। এছাড়া জামায়াত নেতা নকিবুর রহমান তারেক যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতিনিধি দলে যুক্ত হন।

প্রধান দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সরকারপ্রধানের জাতিসংঘ অধিবেশনে যাওয়ার এমন উদ্যোগ বাংলাদেশে নজিরবিহীন।

প্রধান উপদেষ্টা জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগদানের ফাঁকে নেদারল্যান্ডসের রানি ম্যাক্সিমা, বেলজিয়ামের রাণী ম্যাথিল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন। 

বিশ্বনেতাদের সম্মানে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এবং জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। 

এছাড়া গত কয়েক দিনে আলবেনিয়ার প্রেসিডেন্ট বাজরাম বেগাজ, কসোভোর প্রেসিডেন্ট ভিওসা ওসমানি, বতসোয়ানার প্রেসিডেন্ট ডুমা গিডিওন বোকো, ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব্বে, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী ডিক স্কুফ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠক হয় মুহাম্মদ ইউনূসের। 

ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস, বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গা, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মহাপরিচালক এনগোজি অকোনজো-ইওয়েলা, প্যারিসের মেয়র অ্যানে হিদালগো, ক্লাব ডি মাদ্রিদের সভাপতি ও স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতের জন্য মনোনীত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর অধিবেশনের ফাঁকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।  

অধিবেশন চলাকালে নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত থেয়ারওয়ার্ল্ডের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের গ্লোবাল এডুকেশন ডিনারে মুহাম্মদ ইউনূসকে দেওয়া হয় ‘আনলক বিগ চেইঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’। 

এছাড়া বেশ কয়েকটি উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলন ও বৈঠকে অংশ নেন প্রধান উপদেষ্টা। ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির সভাপতিত্বে রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভাতেও তিনি উপস্থিত থাকবেন। 

সফর শেষে ২ অক্টোবর দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধান উপদেষ্টার।