Published : 04 Aug 2026, 05:12 PM
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার আবাসিক এলাকা নয়াপুরে মশার কয়েল কারখানা স্থাপনে পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক শাহনাজ মুন্নী ও স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ দাবি জানান।
শাহনাজ মুন্নীর ভাষ্য, সোনারগাঁয়ের নয়াপুর গ্রামের মসজিদ, মন্দির ও মহিলা মাদ্রাসা সংলগ্ন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ‘শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কস’ নামে ওই মশার কয়েল কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারখানাটি চালু হলে এর বিষাক্ত দূষণে ওই এলাকায় মানুষের বসবাস কঠিন হয়ে পড়বে।
এলাকাবাসীর আবেদনের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান ও শাখা কার্যালয় থেকে মোট নয়বার তদন্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিটি তদন্তেই এলাকাটি আবাসিক হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং আইন অনুযায়ী সেখানে মশার কয়েল কারখানা স্থাপন করা যাবে না বলে মত দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পরিবেশ অধিদপ্তর কারখানাটির অবস্থানগত ছাড়পত্র বাতিল করে।
“কিন্তু আগামী ৬ অগাস্ট আপিল কর্তৃপক্ষের শুনানির মাধ্যমে আবারও সেই ছাড়পত্র দেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
আপিলের মাধ্যমে কারখানাটি একবার ছাড়পত্র পেয়েছিল জানিয়ে শাহনাজ মুন্নী বলেন, সেই ছাড়পত্র পরবর্তী তদন্তে বাতিল করা হয়।
“কিন্তু এখন আবারও আপিলের মাধ্যমে তা অনুমোদনের চেষ্টা চলছে।”
গেল কয়েক বছর ধরে নয়াপুর গ্রামে বসবাসকারী শাহনাজ মুন্নী বলেন, “৩০ বছর সাংবাদিক হিসেবে মানুষের সংবাদ সম্মেলন কভার করলেও এবার পরিবেশ সন্ত্রাসের প্রত্যক্ষ শিকার হয়ে আমি নিজেই সংবাদ সম্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি।”
সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রস্তাবিত কয়েল কারখানাটিকে পুনরায় পরিবেশগত ছাড়পত্র না দেওয়ার আহ্বান জানান শাহনাজ মুন্নীসহ স্থানীয়রা।
তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে—আইন সংশোধন করে পরিবেশ অধিদপ্তরকে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা এবং মন্ত্রণালয়ের আপিল বোর্ড বাতিল করে পরিবেশ আদালতে আপিলের ব্যবস্থা চালু করা।
সংবাদ সম্মেলনে নয়াপুর গ্রামের মসজিদের পক্ষে মাইনুদ্দিন মোল্লা, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাধন সাহা এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কবি শাহেদ কায়েস উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে শারমীন কেমিক্যাল ওয়ার্কসের স্বত্বাধিকারী হারুনের মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোবারক হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে আপিল করেছে। সেই আপিলের শুনানি আগামী ৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তিনি বলেন, “শুনানিতে কী আলোচনা হবে বা সচিব কী সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটা আগে থেকে বলা সম্ভব নয়। ওই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আপিল কর্তৃপক্ষের বিষয়।”
পরিচালক মোবারক হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমাদের আর কোনো ভূমিকা নেই। এখন সিদ্ধান্ত হবে মন্ত্রণালয়ে।”