Published : 13 Sep 2026, 04:16 PM
এক যুগ আগে ঢাকার পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় ঢুকে ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে দিয়েছে আদালত।
রোববার এক আসামির আইনজীবীর সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে ঢাকার নবম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল ইসলাম শুনানির দিন পিছিয়ে ২৫ অক্টোবর রাখেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কাশেম এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আসামি ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপনের আইনজীবী মো. জায়েদুর রহমান সময় চেয়ে আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, ‘আসামির মোবাইল ফোন বন্ধ’ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেনি। এজন্য সময় প্রয়োজন। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির পরবর্তী এ দিন রাখেন, বলেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী ।
এদিন আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ ও আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। হাদিসুর রহমান সাগরকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
সাগরের পক্ষে আইনজীবী কে এম শরীফুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। আদালত ২৫ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির দিন রেখেছেন।
মামলার দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। আর মাহমুদ ইবনে বাশার জামিনে রয়েছেন।
২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট রাতে বাসা ঢুকে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় ফারুকীর বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলে ফয়সাল ফারুকী শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসার কলিং বেল বাজে। দরজা খোলার পর দুজন ঢুকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর সঙ্গে ড্রয়িং রুমে বসেন। এর কিছুক্ষণ পর আরও ৬ থেকে ৭ জন বাসায় প্রবেশ করে। বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। তিনি ফিরে এসে দেখে নুরুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে আসামিরা। পরে তারা বাসার সবাইকে বেঁধে নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যা করে এবং বাসা থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও ক্যামেরা নিয়ে যায়।
ঘটনার ১০ বছর পর ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম।
হত্যার অভিযোগে মামলা হলেও সিআইডি পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে খুন ও ডাকাতির অভিযোগ এনেছে।