১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার পিএস রিমান্ডে

চুরি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় মঙ্গলবার রাতে ড. মকবুল আহমেদ খান এবং তার পিএস নিছার উদ্দীন আকাশকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ইইউবির ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও তার পিএস রিমান্ডে
ইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খানকে বুধবার আদালতে হাজির করে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2026, 08:15 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

চুরির অভিযোগ ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (ইইউবি) ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মকবুল আহমেদ খান এবং তার ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) নিছার উদ্দীন আকাশকে তিন দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত।

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইল এ আদেশ দেন বলে তথ্য প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই লুৎফুর রহমানের। 

গত ৫ জুলাই রাজধানীর গাবতলীতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ দেয় সরকার। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ বিরোধের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা পরিলক্ষিত হয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার স্বার্থে ‘বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস’ গঠন করা হল। রাষ্ট্রপতি ও আচার্যের অনুমতিক্রমে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

আদালতে ইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পিএস নিছার উদ্দিন আকাশ।

আদালতে ইইউবি ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পিএস নিছার উদ্দিন আকাশ।

মামলায় বলা হয়, সরকারি প্রজ্ঞাপনকে অবজ্ঞা করে বোর্ড অব অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের কক্ষে মঙ্গলবার দুপুরে প্রবেশ করেন ড. মকবুল ও তার পিএস নিছার উদ্দীনসহ অন্যান্য আসামিরা। তারা সিলগালা করা দুটি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করেন। পাশাপাশি আলমারিতে রাখা নগদ ১৫ লাখ টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র, হিসাব শাখার কাগজপত্র, রেজিস্ট্রার, ট্রেজারার ও উপাচার্যের কক্ষের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল চুরি করে নিয়ে যান। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য ছড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেন।

এমন অভিযোগে রাফিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মঙ্গলবার রাতে দারুস সালাম থানায় মামলা করেন। এতে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার পর ভোর ৪ টার দিকে ড. মকবুলকে তার ধানমন্ডির বাসা থেকে এবং রাত ৩টার দিকে নিছার উদ্দীনকে গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সকালে তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা দারুস সালাম থানার পরিদর্শক নাজমুল হাসান খান। আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট জিয়াউল হাসান রিমান্ড বাতিল করে জামিন প্রার্থণা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।