১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সংস্কার কাজে রাজনীতিবিদদের অভাব টের পাচ্ছি: অর্থ উপদেষ্টা

“কোনোকিছু করতে গেলেই এই রাজনীতি চলে আসে,” বলেন তিনি।

সংস্কার কাজে রাজনীতিবিদদের অভাব টের পাচ্ছি: অর্থ উপদেষ্টা
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Sep 2025, 08:55 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:15 PM

সংস্কার কাজ চালু রাখতে গিয়ে রাজনীতিবিদদের অভাব টের পাওয়ার কথা বলেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

রাজনীতি সবকিছুর ‘নির্যাস’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রোববার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “অর্থনীতির মূল রাজনীতি। রাজনীতি সবকিছুর নির্যাস, আমরা টের পাচ্ছি। এই সংস্কার বলি আর যাই বলি, রাজনীতির ইচ্ছা, রাজনীতির সাপোর্ট…। 

“রাজনীতি মানে এই বক্তৃতা, সভা-সমাবেশ না শুধু। রাজনীতি মানে দৃষ্টিভঙ্গি, দেশের প্রতি দরদ, দেশের প্রতি মমতা। সেটা হল রাজনীতি। দেশপ্রেমিক, দেশের জন্য কাজ করা। কোনোকিছু করতে গেলেই এই রাজনীতি চলে আসে।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার করতে গিয়ে যেসব ‘ভালো কাজ’ করছে সেসব আগামীতে যারা নির্বাচিত হয়ে আসবেন তাদের চালু রাখার অনুরোধ করেছেন সালেহউদ্দিন আহমেদ।

তার ভাষ্য, “সংস্কারের ব্যাপারে. আমার বন্ধুবান্ধব কিছু রাজনীতিবিদ আছেন, ঘনিষ্ঠ বন্ধুই আছে দুই-একজন, তাদের সাথে দেখা হলে বলি, এগুলো (সংস্কার) ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করবে নাকি? তারা বলে, নিঃসন্দেহে ভালো কাজ করলে করব।

“আমরা চেষ্টা করছি, ভুল করছি হয়ত। তবে ভালো কাজ যেগুলো, দয়া করে বাস্তবায়ন করেন।”

তবে সরকারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে বারবার পড়ছেন তুলে ধরার পাশাপাশি একদম কিছুই হচ্ছে না তা মানতে নারাজ তিনি। বিদেশি সহায়তা ও ঋণ আসছে বলেও তুলে ধরেন অর্থ উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, “গালিগালাজ খাই। আমি খাই, প্রত্যেকদিন প্রায়। প্রচুর গালিগালাজ খাই, ভুল পথে চলে যাচ্ছি, বিপথে চলে গেছি। যাই হোক, আমরা চেষ্টা করছি পজেটিভ করতে।

“…আমরা যেসময় দায়িত্ব নিয়েছি, খুব ইসে (ভালো) ছিল। যাই হোক, আমি ভেতরের ব্যাপারটা জানি। বিদেশে দেশের পাওনা টাকা দেওয়া হয় নাই, কতকিছু। আমরা চার বিলিয়ন ডলার শোধ করেছি। একেবারে কিছুই হচ্ছে না, তা না।”

বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের লেখা বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের এই আয়োজনে সংস্কার নিয়ে জানতে চান বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

বর্তমান সরকার সংস্কার কাজ কতটুকু করতে পারল, নাকি সংস্কার কাজ করতে গিয়ে ‘আরও অগোছাল’ করে ফেলল, তার এই প্রশ্নের 

জবাব দেন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

তিনি বলেন, “সংস্কার তো দেড় বছরে শেষ হয়ে যাওয়ার বিষয় না। প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। এটা টেকসই হওয়ার পূর্ব শর্ত হচ্ছে, এর ব্যাপারে ঐকমত্য থাকা। তাই প্রথম থেকেই চেষ্টা করেছি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে।”

তবে কাঠামোগত পরিবর্তন করতে গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আন্দোলন কীভাবে বাধা তৈরি করেছে, তাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে সমালোচনা যারা করেন, তাদের দায়িত্ব দেওয়া গেলে আরও ভাল হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সমালোচনার ক্ষেত্রে ‘প্রধান’ বিষয় আলোচনার বাইরে চলে যায় তুলে ধরে রিজওয়ানা বলেন, “তবে কাজ করতে যেয়ে দেখেছি, আমরা ফোকাসটা হারিয়ে ফেলেছি। ছোট ছোট বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মূল বিষয়টা হারিয়ে ফেলেছি।”

তার কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাজনৈতিক অর্থনীতি কীভাবে বাধা তৈরি করে তারও একটা ধারণা দেন তিনি।

বলেন, “আমাদের প্রতিদিন কাজ করতে গিয়ে রাজনৈতিক অর্থনীতি যেভাবে দেখি, তা খুব একটা ‘সুখকর’ না। আমরা যারা প্রকৃতি নিয়ে কাজ করি, প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে কাজ করি, তাদের কাছে রাজনৈতিক অর্থনীতির একটা ‘বিভৎস চিত্র’ সবসময়ই থাকে।”

সরকারি খাল-নদী দখলমুক্ত করার পর সেখানে আবার বড় শিল্পগ্রুপের তরফে কৃষি কাজ করার আবেদন পড়তে থাকে তুলে ধরে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, “যে সংস্কারগুলো হচ্ছে, তা যদি টিকিয়ে না রাখতে পারি, তাহলে সংস্কার শুধু কাগুজে হয়ে যাবে।”

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ বইয়ে তার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে লেখা সম্পাদকীয় নিবন্ধের সংকলন করেছেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ, উন্নয়ন ও অর্থনীতির বিভিন্ন গতিপথ নিয়ে এসব নিবন্ধ লিখেছিলেন তিনি।