Published : 16 Nov 2025, 07:04 PM
পুরান ঢাকায় ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে হত্যার মামলায় চার আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছে আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান রিমান্ডের আদেশ দেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মো. ফারুক হোসেন ফয়সাল, রবিন আহম্মেদ পিয়াস, মো. রুবেল ও শামীম আহম্মেদ।
প্রসিকিউশন পুলিশের এসআই আবু বকর রিমান্ডের তথ্য নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার রাতে ফারুক, রবিন, শামীম ও রুবেলকে নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রায়েরবাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ইউসুফকে। তাদের কাছ থেকে মামুন হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
পরে তাদের বিরুদ্ধে কোতয়ালী জোনাল টিমের এসআই কৃষ্ণ কুমার দাস মোহাম্মদপুর থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করেন।
বুধবার তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত চার দিনের রিমান্ড দেয়। চার দিনের রিমান্ড শেষে পাঁচ আসামিকে আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর মো. সাজ্জাদ হোসেন।
ইউসুফ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি তা রেকর্ড করা এবং অপর চার আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামি ইউসুফের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
বাকি চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আরেক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম।
এরপর ফয়সাল, রবিন, রুবেল এবং ইউসুফকে মামুন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ডিবি পুলিশের কোতয়ালী জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর পরিদর্শক মো. সাজ্জাদ হোসেন।
আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এরপর তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালতে রিমান্ডের বিষয়ে শুনানি হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী শেখ সাইফুর রহমান সুমন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন।
তিনি বলেন,"অস্ত্র মামলায় তারা চার দিনের রিমান্ডে ছিলেন। তথ্য যা বের হওয়ার হয়ে গেছে। তারা সবকিছু বলে দিয়েছে। সেখানে তো আর রিমান্ডের প্রয়োজন নেই।"
তখন বিচারক বলেন,"এটা তো অন্য মামলা।"
আইনজীবী সুমন বলেন,"আসামিরা সন্ধিগ্ধ আসামি। এজাহারে নাম নেই। তারা এজাহারনামীয় না।"
এসময় বিচারক বলেন,"তাহলে কি হত্যাকাণ্ড হয়নি? হত্যাকাণ্ড কীভাবে হয়েছে? কোর্টের পাশেই। আপনি (আইনজীবী) তো অস্ত্র মামলার কথা বলেছেন। এটা হত্যা মামলা। অস্ত্র মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।"
আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, "এজাহারে বাদীর কোনো সন্দেহ নেই। কাউকে সন্দেহ করেনি। বাদীকে জোর করে মামলা করিয়েছে। প্রয়োজনে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক।"
শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়, যা আগামি ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।
পুরান ঢাকার আদালত পাড়ার কাছে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের ফটকে ১০ নভেম্বর বেলা ১১টার দিকে গুলি করে হত্যা করা হয় মামুনকে। মামুনের স্ত্রী বিলকিস আক্তার রীপা শনিবার ঢাকার সূত্রাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন।
সেই মামলার বিবরণে বলা হয়, ‘কতিপয় দুষ্কৃতিকারী’ দিনে-দুপুরে জনম্মুখে মামুনকে গুলি করে হত্যা করে।
এ মামলায় কোতয়ালি জোনাল টিমের এসআই কৃষ্ণ কুমার দাস ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ছায়া তদন্ত শুরু করেন। ছায়া তদন্তকালে এ হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার স্বপক্ষে তথ্য পেয়ে বিশেষ অভিযানে তাদের আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
এজাহারে বলা হয়, আসামিরা হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলির বিষয়ে তথ্য দিলে আসামি ইউসুফ মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারের রশিদ ম্যানশনের পেছনের একটি বাড়ি থেকে দুটি পিস্তল ও গুলি বের করে দেন। জব্দ করা অস্ত্রের মধ্যে ফারুক ও রবিন হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র শনাক্ত করেন। তারা দুজন একাধিকবার গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। তারা ‘স্বীকার করেন’, দুই লাখ টাকা পেয়ে তারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। এর মধ্যে এক লাখ ৫৩ হাজার ৬৪০ টাকা এবং হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
এদিকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর ১২ নভেম্বর ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, অপরাধ জগতে অন্তঃকোন্দলের জেরে ‘২ লাখ টাকায় খুনি ভাড়া করে’ মামুনকে খুন করা হয়।