চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনার টেবিলে কী থাকছে?

ওয়াং ই এর এই সফরের প্রস্তুতি হয়েছে তড়িঘড়ি করেই; আলোচনা শুরুর ১৩ দিনের মাথায় ঢাকায় আসছেন তিনি।

মাসুম বিল্লাহবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 August 2022, 04:25 PM
Updated : 5 August 2022, 04:25 PM

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর ঢাকা সফরকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ হিসেবেই তুলে ধরছে বাংলাদেশ সরকার; যা নিয়ে বিশ্লেষকরাও মনে করছেন সফরে ‘অন্য আলোচনা’ উঠলেও বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতার খারাপ সময় ‘উৎরে’ যেতে দুদেশের সহায়তার উপায় খোঁজার চেষ্টা থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ বহুমাত্রিক সম্পর্কের কারণে তড়িঘড়ি এ সফরের আয়োজন হলেও একে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন তারা। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চীনা মন্ত্রীর এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণও বলছেন তারা।

তবে আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট চীনা মন্ত্রী উত্থাপন করলে, সে অনুযায়ী নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করার কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

সফরের বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, “উনি আসলে পরে বোঝা যাবে, কী বার্তা উনি দিচ্ছেন।

“তবে, এটা এই অঞ্চলে তাদের নিয়মিত সফরের অংশ। তো, সেটার অংশ হিসেবে উনি আসছেন। আমাদের সাথে তাদের বিভিন্ন রকমের অ্যাংগেজমেন্ট, সেগুলো খতিয়ে দেখার একটা সুযোগ আসবে।”

শনিবার ঢাকায় নামবেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরদিন রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হবে; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি।

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ আর সবশেষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে চীন ও বাংলাদেশ উভয়ে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দ্বিপক্ষীয় ইস্যু প্রাধান্য পেলেও বৈশ্বিক রাজনীতিতে প্রতিযোগিতার বিষয়ও থাকছে।

ওয়াং ই এর এবারের ঢাকা সফরের প্রস্তুতি বেশ তড়িঘড়ি করেই নিয়েছে দুদেশ; এ সফরের আলোচনা শুরুর মাত্র ১৩ দিনের মাথায় আসছেন তিনি।

সফরের বিষয়ে জানাতে গত ২৪ জুলাই ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, তখন চীনের প্রস্তাব ছিল ৫ থেকে ৬ অগাস্ট এ সফর আয়োজনের।

কিন্তু মোমেন ওই সময়ে আসিয়ান আঞ্চলিক সম্মেলনে থাকবেন বলে সফর পেছানোর প্রস্তাব দেয় ঢাকা। এরপর আলোচনার ভিত্তিতে সফর একদিন পিছিয়ে ৬ ও ৭ অগাস্ট করা হয়।

অন্যদিকে, চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও আসিয়ানের ওই সম্মেলন ঘিরে এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশ সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে আসছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন। এর মধ্যে মঙ্গোলিয়ায়ও যাওয়ার কথা রয়েছে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নিজেদের প্রভাব নিয়ে অন্যান্য দেশের পাশাপাশি ভারত-চীনের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি সফরের বিভিন্ন আলোচনায় আসতে পারে বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লায়লুফার ইয়াসমীন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় ভৌগলিকভাবে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দেশ, বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে- এ বার্তা পৌঁছাতে আসছেন। কারণ, আমি মনে করছি যে, আমরা যেভাবে করে বিশ্ব রাজনীতিটা দেখছি, একদিকে গ্লোবাল লেভেলে একটা গেইম চলছে, আরেকটি চলছে আঞ্চলিক পর্যায়ে।“

রাশিয়া-ইউক্রেইন ইস্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও কোনো পক্ষে অবস্থান ব্যক্ত করেনি বাংলাদেশ; বরং কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি সমর্থন জানাতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানান ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং।

পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে ‘এক চীন’ নীতির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে সরকার; পাশাপাশি সংযত আচরণ এবং সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের আহ্বান জানায়।

বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক রাজনীতি কোন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় আসতে পারে, সেটির ব্যাখ্যা দিয়ে অধ্যাপক লায়লুফার বলেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলো ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় অনেক সময় সাপোর্ট দিতে পারে। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি আসছেন, তিনি কিন্তু আসছেন বাংলাদেশকে নিয়ে তার দেশের, বাংলাদেশকে নিয়ে তার সরকার কী ভাবে, সেই বার্তাটি পৌঁছে দিতে তিনি বাংলাদেশে আসছেন।

“গ্লোবাল লেভেলে আপনি ইউএস-চায়না-রাশিয়া দেখছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-চীন-বাংলাদেশ এভাবে করে দেখবেন। সে কারণে আমি মনে করি যে, তারা বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক উভয় পর্যায়ে কোনো দেশকে কম গুরুত্ব দিতে চায় না, এই বার্তাটা নিয়ে তারা মনে হয় আসছে।”

ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বহুল আলোচিত ইন্দো-প্যাসেফিক স্ট্র্যাটেজি (আইপিএস) আর ইন্দো-প্যাসেফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অনেকটা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনের রয়েছে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনেশিয়েটিভ (বিআরআই)।

সরকার বলে আসছে, কোনো ধরনের নিরাপত্তা বা সামরিক জোটে বাংলাদেশ থাকবে না। তবে বিভিন্ন দেশের কৌশলের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্ত হতে সরকার রাজি আছে।

চীন বিরোধী জোট হিসেবে এ অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে কোয়াড্রিলেটেরাল সিকিউরিটি ডায়ালগ বা কোয়াড জোট।

এ জোটে কোনোভাবে যুক্ত হলে বাংলাদেশের জন্য ’ভালো হবে না’ বলে ২০২১ সালের মে মাসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে হুঁশিয়ার করেছিলেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত জিমিং।

এর জবাবে সেসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেছিলেন, চীনা রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ‘আগ বাড়ানো’ কথা। বাংলাদেশ ‘নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যপূর্ণ’ পররাষ্ট্রনীতি মেনে চলে।

এবার চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে কোয়াডসহ অন্যান্য বিষয় আলোচনার উঠবে কি না, এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো ইস্যু উত্থাপন করার কিছু নাই। তবে তারা তুললে আমরা প্রস্তুত আছি। অন্য বলয়গুলোর সাথে আমাদের সম্পর্ক কী হবে সেটা আমাদের ইস্যু।

Also Read: ঢাকা আসছেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

“আমরা চাই না আমাদের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে কেউ পরামর্শ বা নির্দেশনা দিক। এ বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চীন বাংলাদেশের একটি বন্ধু রাষ্ট্র এবং তাদের অনেক পরিকল্পনার সাথে আমাদের সম্মতি আছে।”

এ সফরে বৈশ্বিক পরিস্থিতির নিয়ে আলোচনা আসলেও দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে বলে মনে করছেন চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।

তিনি বলেন, “দ্বিপাক্ষিক, বহুপাক্ষিক, রোহিঙ্গা এবং বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি সব কিছু নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। এবং দুদেশের সহযোগিতা কীভাবে এই সমস্ত ক্ষেত্রে বাড়ানো যায়, আমি মনে করি যে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হবে এবং আমরা সেখান থেকে দুই পক্ষই লাভবান হব।”

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, “বাংলাদেশের জন্য চীন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, চীনের জন্যও বাংলাদেশ তেমন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তাদের এত ইনভেস্টমেন্ট আছে, কার্যক্রম আছে। আদান-প্রদানের অংশ হিসেবে নিয়মিত যে যাতায়াত, তার অংশ হিসেবে এটাকে দেখতে হবে। দেখাটাই আমি সমীচীন বলে মনে করি।”

নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখে পররাষ্ট্র নীতির ব্যবস্থাপনাকে বাংলাদেশ সঠিক পথে রাখতে পেরেছে উল্লেখ করে এক প্রশ্নে মুন্সী ফয়েজ বলেন, “বর্তমানে খুব অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলতেছে। রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের জন্য, তাইওয়ানে একটা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নানা ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আমরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

Also Read: ‘এক চীন’ নীতিতে সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশ বলল, বিরোধের সমাধান সংলাপে

“জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাচ্ছে, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে, ডলার নিয়ে সমস্যা হচ্ছে- এই সমস্ত সময়ে আমরা কীভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে উৎরে যেতে পারি, সেটার চেষ্টা করা।

সাবেক এই রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে চীন হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বড় বড় প্রকল্প চীনের প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করছে।

“অনেক প্রকল্প অন্যরা অর্থায়ন করলেও চীনা কোম্পানি নির্মাণের সঙ্গে জড়িত। কারণ, তারা এসব কাজে অভিজ্ঞ ও তাদের সুনাম আছে। সুতরাং তাদের সাথে আমাদের ঘন ঘন যাতায়াত হবে, এটাই স্বাভাবিক।”

এসব প্রেক্ষাপট ছাড়াও ২০২৩ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি বিদেশিদের তৎপরতাও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

গত ৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ১৪টি পশ্চিমা দেশের জোট অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কোঅপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) এর দেশগুলোর ঢাকায় নিযুক্ত দূতেরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে।

এরপর জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বক্তব্য দেন কয়েকজন কূটনীতিক।

কয়েক দিন পর জুলাইয়ের মাঝামাঝিতে ঢাকায় বিদেশি মিশনগুলোতে চিঠি দিয়ে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনৈতিক শিষ্টাচার মেনে চলার পরামর্শ দেয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ওই চিঠি প্রকাশ্যে আসার মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠকের পর টুইটারে প্রায় অভিন্ন বার্তা দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আখিম ট্র্যোস্টার ও নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত আনে ফন লিউভেন।

গত ২৪ জুলাই ওই বৈঠকের ছবি দিয়ে আখিম ট্র্যোস্টার লিখেছেন, “স্বাগতিক দেশের রাজনৈতিক দল ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা কূটনীতিকদের মৌলিক কাজেরই অংশ।”

এমন ঘটনার দুই সপ্তাহের মধ্যে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফর হচ্ছে।

আবার এ সফরের মাস খানেক পর সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এমন প্রেক্ষাপটে ওয়াং ই এর ঢাকা অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টিও আসতে পারে বলে মনে করছেন রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী আগামী মাসে ভারতে যাবেন। তো, চীনের সাথে যদি আশা-যাওয়া শুরু হয়, তাহলে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর ওখানে যাওয়ারও একটা দাওয়াত আসতে পারে অথবা ওদের নেতানেত্রীদেরও বাংলাদেশে আসতে পারেন, এমন প্রসঙ্গ আসতে পারে।

“আসতে পারে না এমন নয়। সেগুলো আসতে পারে, আবার নতুন প্রজেক্ট কী আসতে পারে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”

এর আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ ঢাকা সফর করেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। এর ঠিক এক বছর আগে বাংলাদেশে সফরে এসেছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।

বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের কাছে এক সাংবাদিক জানতে চান, “কী বার্তা নিয়ে আসছেন, চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী?”

“সেটা তিনি ভালো বলতে পারবেন”, কৌশলী উত্তর আসে প্রতিমন্ত্রীর কাছ থেকে। এরপর সেই বার্তা জানতে সফরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে বলেন তিনি।

পাঁচটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি নিয়ে আলোচনা

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর সফরে পাঁচ থেকে সাতটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার।

এগুলোর মধ্যে পাঁচটি চুক্তি ও এমওইউ সই হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এর মধ্যে রয়েছে পিরোজপুরে কচা নদীর উপর নির্মিত অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু হস্তান্তর চুক্তি। পিরোজপুর থেকে খুলনার পথে চীনের অর্থায়নে নির্মিত এ সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিলোমিটার।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি প্রকল্পে সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি হবে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে। চীনের ঋণে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে এ চুক্তি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্যোগ মোকাবিলায় চুক্তি হতে পারে। যার মধ্যে হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার দুটি দিকই থাকবে।”

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, এর বাইরে সাংস্কৃতিক বিনিময়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষা সংক্রান্ত বিনিময় এবং দুদেশের টেলিভিশনের মধ্যে অনুষ্ঠান বিনিময়ে পৃথক তিনটি সমঝোতা চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, সেগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

চীন থেকে নতুন করে ঋণ নেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, “নতুন করে কোনো ঋণ নেওয়া হবে, এমন ব্যাপারে এবারে নেই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক