১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবপাচার প্রতিরোধে কাজ করবে বাংলাদেশ ও ইইউ

দক্ষতা মূল্যায়ন, সনদ প্রদান, ভাষা প্রশিক্ষণসহ জাতীয় পুনর্বাসন নীতি অনুযায়ী প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনে ইইউর সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 13 Oct 2026, 12:20 AM

Updated : 13 Oct 2026, 12:20 AM

অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে কাজ করতে ঐকমত্য হয়েছে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ইউরোপের শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ দিতেও ইইউকে অনুরোধও করা হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সোমবার এ লক্ষ্যে এক দ্বিপক্ষীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ইইউ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইউরোপের ২৭টি দেশের এই রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক জোটের অভ্যন্তরীণ ও অভিবাসন বিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার।

সভায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, “নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। অনিয়মিত অভিবাসন রোধ ও অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ৫২টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।”

দক্ষতা উন্নয়নে বাংলাদেশ ইইউর ‘ট্যালেন্ট পার্টনার’ হিসেবে কাজ করছে মন্তব্য করে দক্ষ কর্মীদের ইউরোপের বাজারে প্রবেশাধিকার আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান মন্ত্রী।

সভায় ‘বাংলাদেশ-ইইউ ট্যালেন্ট পার্টনারশিপের’ অধীনে ইউরোপের তথ্য ও প্রযুক্তি, নির্মাণ, পোশাক, জাহাজ নির্মাণ, কৃষি ও হসপিটালিটি খাতে বাংলাদেশি দক্ষ কর্মীদের কর্মসংস্থানে সহযোগিতা কামনা করেন প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ।

এছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ডে দক্ষতা মূল্যায়ন, সনদ প্রদান, ভাষা প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল নিয়োগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং 'জাতীয় পুনর্বাসন নীতি ২০২৫' অনুযায়ী প্রত্যাগত কর্মীদের পুনর্বাসনে ইইউর সহায়তা চান তিনি।

ইইউ কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, “অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার দমনের পাশাপাশি বৈধ পথে অভিবাসন নিশ্চিত করতে ইইউ সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, বোয়োসেলের এমডি মোহাম্মদ রাশেদুল হক, যুগ্মসচিব শহিদুল ইসলাম চৌধুরী।

ইইউ প্রতিনিধি দলে ম্যাগনাস ব্রুনার ছাড়াও ছিলেন পরিচালক হেনরিক নিলসেন, ক্যাবিনেট মেম্বার গ্রিগোরিওস ডেলাভেকোরাস এবং কমিশনারের যোগাযোগ উপদেষ্টা লুকাস গাসনার।

এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেপুটি হেড অব ডেলেগেশন বাইবা জারিনা এবং ফার্স্ট কাউন্সেলর ও পলিটিক্যাল অফিসার কামিলা পার্টিস্কা উপস্থিত ছিলেন।