১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের সহযোগিতা চেয়েছে সরকার

“আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Feb 2026, 04:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের সহযোগিতা চাওয়ার কথা জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

রোববার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য দিয়েছে।

এতে বলা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী জেনিভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন গত ৬ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) কাছে একটি আনুষ্ঠানিক ‘নোট ভারবাল’ পাঠিয়েছে।

“নোটে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদানের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।”

জেনিভায় বাংলাদেশ মিশন বলেছে, “ওএইচসিএইচআর থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া মাত্রই তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে।”

জাতিসংঘের অধীনে ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত দাবি করে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যমুনার সামনে অবস্থান নেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যে শুক্রবার বিকালে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে সংগঠনটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে, ওসমান হাদির হত্যার ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে সরকার ‘দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুসরণ করে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা এক যুবক।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর ওই রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১৮ ডিসেম্বর হাদির মৃত্যুর খবর আসে।

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত হয়। এরপর থানা পুলিশের হাত ঘুরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।

তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ।