সাভারের এমপিপত্নী সাবিনার কলেজ সভাপতির দায়িত্ব আটকাল হাই কোর্ট
এ সংক্রান্ত সংবিধির একটি ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।
ঢাকার সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতির যে দায়িত্ব দিয়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তার কার্যকারিতা স্থগিত করেছে হাই কোর্ট।
সোমবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
একইসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শকের দেওয়া ওই সিদ্ধান্ত এবং এ সংক্রান্ত সংবিধির একটি ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার নূর উল মতিন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খানকে দুই বছরের জন্য মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী ২০২৭ সালের ২৪ এপ্রিল তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই গত ২৩ জুলাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক এক আদেশে ঢাকা-১৯ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর স্ত্রী সাবিনা সিদ্দিকাকে সভাপতির দায়িত্ব দেন।
এ সিদ্ধান্ত আসার পর শিহাব উদ্দিনের পক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রার ও কলেজ পরিদর্শক বরাবর আইনি নোটিস পাঠানো হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সভাপতি পরিবর্তনের আদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হলেও কোনো সদুত্তর না পাওয়ায় তিনি এ রিট মামলা করেন।
এ আবেদনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজ পরিদর্শক এবং সাভারের মোফাজ্জল-মোমেনা চাকলাদার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ/শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহের গভর্নিং বডি (সংশোধিত) সংবিধি ২০১৯-এর ৭ ধারাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। ওই ধারায় গভর্নিং বডির মনোনয়ন পরিবর্তনে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কারণ ছাড়াই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ায় রিটকারীর সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আবেদনে বলা হয়।
রিট আবেদনকারী শিহাব উদ্দিন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই এবং পূর্ববর্তী সভাপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সংসদ সদস্যের স্ত্রীকে সভাপতি করার এই প্রক্রিয়াটি অবৈধ, বৈষম্যমূলক ও স্বেচ্ছাচারী।”
