১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদ ও ভাইসহ কয়েকজনের সাড়ে ৪ কোটি শেয়ার অবরুদ্ধ

সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত এসব সম্পদ জব্দের আদেশ দেয়।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Nov 2025, 12:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার ভাই এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রায় সাড়ে ৪ কোটি শেয়ার অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছে আদালত।

সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মঙ্গলবার এসব সম্পদ জব্দের আদেশ দেয়।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, “অনুসন্ধানে অবৈধ অর্থ দিয়ে এসব শেয়ার ক্রয়ের প্রমাণ পাওয়ায় আদালতের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।”

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার ভাই ইউসিবি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি এবং রনির স্ত্রী মেঘনা ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ইমরানা জামান চৌধুরীর নামে থাকা মেঘনা ব্যাংকের প্রায় সাড়ে চার কোটি শেয়ার অবরুদ্ধ করার আবেদন করলে সিআইডিকে নির্দেশ দেয় আদালত।

অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের কথা জানিয়ে সিআইডির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন ব্যক্তিগত হিসাব এবং তাদের 'কাগুজে' প্রতিষ্ঠান ‘স্টিডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের’ নামে মোট ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার ২০০ শেয়ার ক্রয় করা হয়।

“এসব শেয়ারের তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৫৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এসব শেয়ার পরে স্টক ডিভিডেন্ড যোগ হয়ে মোট শেয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৬৩ হাজার ৪৫৫টি’তে উন্নীত হয়।”

অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, জালিয়াতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ অর্জন করেছেন বলে সিআইডি বলছে। 

“এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন মাধ্যমে বিদেশে প্রেরণ করা হয় এবং পুনরায় দেশে এনে বৈধ করার চেষ্টা করা হয় মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়।”

প্রাথমিক অনুসন্ধানের বিষয়ে সিআইডি আরো তথ্য দিয়ে বলছে, “২০২২ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, সিঙ্গাপুর ও দুবাই থেকে মোট ২ কোটি ২২ লক্ষ ৫ হাজার ৪৪৪ মার্কিন ডলার দেশে আনা হয়। এই টাকা অভিযুক্তদের সহযোগী আবুল কাসেমের মাধ্যমে ইউসিবি ব্যাংক ও এনআরবিআইসি ব্যাংকের এফসি অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরবর্তীতে ইমরানা জামান চৌধুরী এবং ‘স্টিডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেডের নামে মোট ৬০ কোটি টাকা নগদ ও পে-অর্ডারের মাধ্যমে জমা করা হয়।"

ওই অর্থ কমিউনিটি ব্যাংকের একটি বিশেষ অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করে ৫৯ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা মেঘনা ব্যাংকের শেয়ার ক্রয়ে ব্যবহার করা হয় বলা হয় বিজ্ঞাপ্তিতে।

‘স্টিডফাস্ট ম্যানেজমেন্ট ট্রেডিং লিমিটেড’ নামীয় প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপল পালকে ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং নাসিম উদ্দিন মোহাম্মদ আদিলকে ডিরেক্টর হিসেবে দেখানো হয়েছে।

উৎপল এবং নাসিম দুজনেই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মালিকানাধীন আরামিট গ্রুপেরও কর্মচারী এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সিআইডির অনুসন্ধানে প্রকাশিত হয় সিআইডি বলছে। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অজ্ঞাত অপর সদস্যদের সনাক্তকরণ ও অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির অনুসন্ধান এখনও অব্যাহত রয়েছে।”