Published : 22 Jan 2026, 02:26 PM
আদালতের আদেশে সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্পের সাবেক হিসাব রক্ষক খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালের জমি, ফ্ল্যাট, গাড়ি ও টাকা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি বলছে, ইকবালের এসব সম্পত্তির মূল্য ৩১ কোটি ১০ লাখ ২৬ হাজার ৮৪২ টাকা। এসব সম্পত্তি তিনি সার কারখানা প্রকল্পের ‘আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে’ গড়েছেন বলে অভিযোগ করেছে সিআইডি।
বাজেয়াপ্ত করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে, ‘মুগদা ও উত্তরার কাওলা এলাকায় কেনা ২৩.৫ কাঠা জমি; ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলায় ৩০৩.২ শতাংশ জমি; সিদ্ধেশ্বরী, মিরপুর, বনশ্রী, বাসাবো ও উত্তরার কাওলা এলাকায় ১৮টি ফ্ল্যাট; মুগদা, আফতাবনগর ও উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে ৩৯২.৭৩২৩ অযুতাংশ জমির ১১টি শেয়ার।
এর পাশাপাশি পাশাপাশি ২১টি মিনিবাস, ২টি হায়েস গাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে ইকবালের নামে থাকা ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “সিআইডির তদন্তে এসেছে, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের সাবেক হিসাব রক্ষক ও হিসাব বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৮ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেন।
“সেই অর্থ ব্যবহার করে তিনি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমি, ফ্ল্যাট, যানবাহন ও অন্যান্য স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করেন।”
অর্থ আত্মসাতের এই অভিযোগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে মতিঝিল থানায় একটি মামলা করে সিআইডি।
মামলার তদন্তে আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে সম্পদ অর্জনের ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ’ পাওয়ায় আদালত এসব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্তের আদেশ দেয়।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত চলছে জানিয়ে সিআইডি আরো বলছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য বের করতে এবং অজ্ঞাত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল। পরে পদোন্নতি পেয়ে হিসাব বিভাগের প্রধান হন।
১৪ বছরের চাকরি জীবনে মোট ৯১টি গাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৫ বছর আগে ওই কারখানা থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
২০২২ সালের জুনে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করে র্যাব।
পরে র্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে ইকবাল ও হালিমা দম্পতির বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি, যার প্রেক্ষিতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে সংস্থাটি।