১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণা, স্বর্ণ চোরাচালানের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মঙ্গলবার রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয় বলে সিআইডি জানিয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Oct 2025, 05:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:23 PM

যুক্তরাষ্ট্রের এক নাগরিকের সঙ্গে প্রতারণা, ভারতের স্বর্ণ চোরাচালান এবং ৬০০ কোটি টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিআইডি। 

মঙ্গলবার রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা করা হয় বলে সিআইডি জানিয়েছে। 

মামলা করা হয়েছে মনীন্দ্র নাথ বিশ্বাস (৫০), ওয়াহিদুজ্জামান (৫২), মো. গোলাম সারওয়ার আজাদ (৫১), মো. তরিকুল ইসলাম, রিপন ফকির (৪৯), রাজীব সরদার (৩৭) এবং উজ্জ্বল কুমার সাধুর (৩৮) বিরুদ্ধে।

বিজ্ঞপ্তিতে সিআইডি বলছে, প্রতারণার ঘটনা অনুসন্ধানে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে।

"সিআইডির অনুসন্ধানে উঠে আসে ডেবোরাহ জন্সটন রামলো ডেবি নামের এক মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে এই প্রতারক চক্র বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ তৈরি করে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, এই প্রতারকচক্র ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সির (ডিইএ) পরিচয় দিয়ে ২ লাখ ২২ হাজার  মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ১৬ হাজাট ৩৫১ টাকা) আত্মসাৎ করে।

“প্রতারকচক্র ছল-চাতুরি ও ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ওই মার্কিন নাগরিককে বাধ্য করে যেন তিনি এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আমেরিকায় অবস্থিত বিভিন্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে দেন।"

সিআইডি বলেন, “বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে ওই সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযুক্তরা তাদের নাম সর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা গ্রহণ করে। অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধ প্রতারণা ছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- আইনক্স ফ্যাশন, ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ, জামান এন্টারপ্রাইজ ও নোহা এন্টারপ্রাইজ বলা হয় বিজ্ঞাপ্তিতে।

মার্কিন নাগরিকের সাথে প্রতারণার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে সিআইডি জানতে পারে চক্রটি স্বর্ণ চোরাচালানের সাথেও জড়িত।

"তারা বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ব্যক্তিদের কাছ থেকে এবং ঢাকার তাঁতীবাজারসহ অন্যান্য স্থানের বিভিন্ন দোকান থেকে ভাঙারি স্বর্ণ সংগ্রহ করে তা গলিয়ে পাকা সোনার বার আকারে রূপান্তরিত করে দীর্ঘদিন ধরে পাচার করে আসছে।"

এসব সোনার বার মূলত সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করা হয় বলে সিআইডির দাবি।

"প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায় যে, এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযুক্তরা মোট প্রায় ৬ শত ৮ কোটি ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার টাকা হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রুপান্তর করে ভোগ-বিলাস, অর্থ পাচারসহ নামে-বেনামে সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।"

এসব অপরাধ মানি লন্ডারিং আাইনে হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এর ৪(২)/৪(৪)/৮(২) দায়ের করা হয়।